নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এই সঙ্কট মোকাবেলায় যথাযথ কর্মসূচি এবং টেকসই অর্থায়ন জরুরি। আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত ‘যুব সমাজে উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকি এবং করণীয় : বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এ মতামত তুলে ধরেন। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহায়তায় এই অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক ছিল তরুণদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল স্টুডেন্টস’ সোসাইটি, প্ল্যাটফরম ডক্টরস ফাউন্ডেশন, ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন এবং গিভ বাংলাদেশ। আজ ১২ আগস্ট ডিফারেন্ট কনটেক্সট, কমন অ্যাসপিরেশন প্রতিপাদ্য নিয়ে দিবসটি উদযাপিত হবে।
বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ এবং এর মধ্যে ১৯ শতাংশই অকাল মৃত্যু। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’র তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে শীর্ষ ১০টি রোগের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। ‘বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে, ২০১৮’ এর তথ্য অনুযায়ী ১৮-৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হলে এই সঙ্কট মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা: সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপজনিত অকালমৃত্যু কমাতে তৃণমূল পর্যায়ের সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে টেকসই অর্থায়ন জরুরি। সুস্থ তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে এটি হতে পারে সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ।’ ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্টস স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক ডা: মলয় কান্তি মৃধা বলেন, ‘গবেষণাভিত্তিক প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’



