রেজাউল ইসলাম সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তিস্তা শাখা নদীর ওপর একটি জরাজীর্ণ কাঠের সাঁকোই প্রায় ৩০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা। স্থায়ী সেতু ও উন্নত সড়ক যোগাযোগের অভাবে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পারাপার করছেন শিার্থী, কৃষক, শিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর বেলকা, চর চরিতাবাড়ী, জিগাবাড়ী, কাশিম বাজার, বজরা, উজান চেওড়া, চর বজরা, মহিষবান্দিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই কাঠের সাঁকো। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি সে দাবি।
সরেজমিন দেখা যায়, সাঁকোটির অনেক কাঠ পচে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে পাটাতন উঠে বড় বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও দড়ি দিয়ে কাঠ বেঁধে কোনোভাবে চলাচল উপযোগী রাখা হয়েছে। একসাথে কয়েকজন উঠলেই সাঁকোটি দুলতে শুরু করে, যা পারাপারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
চর চরিতাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম বলেন, কয়েক শতাধিক পরিবারের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সাঁকো। শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ সবাইকে ঝুঁকি নিয়েই এটি ব্যবহার করতে হয়।
পঞ্চম শ্রেণীর শিার্থী সাইফুল ইসলাম জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে সাঁকো পার হতে ভয় লাগে। বই হাতে নিয়ে সাবধানে চলতে হয়। একটি পাকা সেতু নির্মাণ হলে শিার্থীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যেত।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল আউয়াল বলেন, প্রতিদিন কৃষিকাজের জন্য নদীর ওপারে যেতে হয়। কাঁধে ফসল বা কৃষি সরঞ্জাম নিয়ে সাঁকো পার হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় চার দশক ধরে তারা একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি মিললেও পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না। ফলে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের মতে, শিা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিয়েশাদির েেত্রও অনেক সময় যোগাযোগ সঙ্কট নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নবিয়াল বলেন, একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সার্বিক জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। বর্তমানে যোগাযোগ সমস্যার কারণে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, স্থানীয় উদ্যোগে সাঁকোটির কিছু অংশ সংস্কার করা হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য দ্রুত একটি সেতু ও পাকা সড়ক নির্মাণ জরুরি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, বেলকা তিস্তা শাখা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত প্রকল্পের অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এতে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চরাঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।



