নিজস্ব প্রতিবেদক
সশস্ত্রবাহিনী কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর একক প্রতিষ্ঠান নয়। এটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার শেষ আশ্রয়স্থল এবং ১৬ কোটি মানুষের অবিচল আস্থার প্রতীক। পবিত্র এই পেশাদারিত্বকে অক্ষুণœ রাখতে ভবিষ্যতে যাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনা, প্রতিহিংসা বা অনাকাক্সিক্ষত হস্তক্ষেপের কারণে কোনো সামরিক সদস্য বৈষম্যের শিকার না হন- তা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক ‘সুরক্ষা কবচ’ তৈরি করা সময়ের দাবি। গতকাল বিকেলে ঢাকার রাওয়া ক্লাবের ঈগল হলে অনুষ্ঠিত ‘বঞ্চিত সামরিক কর্মকর্তাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকারের উদ্যোগ কৃতজ্ঞতা, মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় এ কথা বলেন এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট (অব:) সাইফুল্লাহ খাঁন সাইফ। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে বঞ্চিত সামরিক সদস্যদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বঞ্চনার শিকার সশস্ত্রবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা। তাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের গৃহীত যুগান্তকারী পদক্ষেপকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্রবাহিনী বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামসুল ইসলামের একান্ত প্রচেষ্টা এবং সেনাপ্রধানের আন্তরিক উদ্যোগের ফলে সরকার প্রথম ধাপে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ১৫০ জন বঞ্চিত কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তকে উপস্থিত সবাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
আলোচনায় বক্তারা আরো উল্লেখ করেন যে, প্রথম ধাপের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় অবশিষ্ট বঞ্চিত সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের আবেদনগুলো মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি নতুন উচ্চপর্যায়ের বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার এই আন্তরিক ভূমিকা দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অবসান ঘটাতে এবং সব বঞ্চিত সদস্যের আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে সভায় আশা প্রকাশ করা হয়। একই সাথে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার গতিশীল নেতৃত্বে সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিকায়ন, পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি ও ইতিবাচক সংস্কারের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
আলোচনা সভায় উপস্থিত সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বিশেষ উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক গ্রীষ্মকালীন সামরিক মহড়া পরিদর্শনের বিষয়টিকে একটি যুগান্তকারী ও দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা অভিমত ব্যক্ত করেন যে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্বের এমন সরাসরি সম্পৃক্ততা সামরিক বাহিনীর প্রতি আস্থা, পেশাদারিত্ব, পারস্পরিক সমন্বয়কে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের জন্য একটি অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
সভার শেষভাগে, সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি অবশিষ্ট সব বঞ্চিত সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের ফাইলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি, প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন, বকেয়া পদোন্নতি এবং প্রাপ্য আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়।
আলোচনা সভায় সশস্ত্রবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ, সাবেক সামরিক সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিরক্ষা গবেষক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



