সিলেট সীমান্তে জীবনমান উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় বিজিবির সমন্বিত উদ্যোগ

Printed Edition
বিজিবির উদ্যোগে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন স্থানীয়রা  : নয়া দিগন্ত
বিজিবির উদ্যোগে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন স্থানীয়রা : নয়া দিগন্ত

আবদুল কাদের তাপাদার সিলেট

সিলেটের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সীমান্ত সুরক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সচেতনতা বৃদ্ধি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা- এই তিনটি ধারাকে একত্র করে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

গত রোববার জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) আয়োজিত জনসচেতনতামূলক সভা, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প এবং ‘আলোর পথে’ শীর্ষক কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এ উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: জুবায়ের আনোয়ার। প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন।

সভায় বক্তারা বলেন, সীমান্ত অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, দারিদ্র্য ও শিক্ষার ঘাটতির কারণে অনেক মানুষ এখনো উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে। এই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র সহজ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয়দের মাদক পাচার, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলছে।

বিজিবি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, এসব কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তির জীবন নয়, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর। তাই কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে বিজিবি স্থানীয়দের উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কর্মকর্তারা বলেন, কৃষিকাজ ও বাগানচর্চার মাধ্যমে বৈধ আয়ের পথ তৈরির ওপর জোর দেয়া হলে সীমান্তের জনগণ এ ধরনের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ চোরাচালানে অংশ নিবে না। পাশাপাশি ‘আলোর পথে’ কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকদের হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে বিজিবির পক্ষ থেকে, যা বেকারত্ব কমাতে সহায়ক হবে।

সভায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায়ই প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং সশস্ত্র চোরাকারবারিদের ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। তবু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। তাদের মতে, অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর হওয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়। কারণ এতে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত পিলারও ঝুঁকির মুখে পড়ে। দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে কয়েক শ’ দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ দেয়া হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়ে।

অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন স্থানীয় মানুষ এতে অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, গুজবে কান না দিয়ে এবং সীমান্তে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা এড়িয়ে চললে এ অঞ্চল নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে।