নিজস্ব প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের তিনটি কমিটি গঠন এবং এর দু’টির সচিবালয়সংক্রান্ত সহায়তায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সম্পৃক্ততায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ৫২ নাগরিক। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে পাহাড়ে সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়তে পারে। তবে সরকারের ঘোষিত কার্যপরিধিতে নিরাপত্তা, সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সব সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্রসচিবকে সভাপতি করে নির্বাহী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পরামর্শক কমিটি গঠন করে। জাতীয় কমিটিতে তিন পার্বত্য জেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও রাখা হয়েছে।
৫২ নাগরিকের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম মূলত একটি রাজনৈতিক সমস্যা। দীর্ঘ দিন সামরিকায়নের মাধ্যমে পাহাড়ের জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা সঙ্ঘাত, রক্তপাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির প্রায় ২৯ বছর পরও এর মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়িত হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।
তাদের প্রধান আপত্তি, জাতীয় ও নির্বাহী কমিটির সচিবালয়সংক্রান্ত জনবল ও অবকাঠামোগত সহায়তায় ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা। নাগরিকদের আশঙ্কা, এতে পাহাড়ে সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার হতে পারে। তারা কমিটিগুলোকে গোয়েন্দা নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে পুনর্গঠন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে রাজনৈতিক সংলাপ এবং চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
অন্য দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর রাঙ্গামাটিতে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সরকারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্বাহী কমিটি পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সব সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়নের কাজ করবে। একই সাথে প্রচলিত আইন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির শর্ত ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করার দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।
পরামর্শক কমিটিতেও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নতুন কাঠামোটি নিয়ে এক দিকে সামরিকায়নের আশঙ্কা, অন্য দিকে নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা- দুই ধরনের অবস্থানই সামনে এসেছে।
সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া এবং নতুন করে কর্তৃত্ববাদী আমলাতান্ত্রিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে দেয়া বিবৃতিতে আনু মোহাম্মদ, সুলতানা কামাল, খুশী কবির, ড. ইফতেখারুজ্জামান, আবু সাঈদ খান, শহিদুল আলম, শামসুল হুদাসহ ৫২ জন নাগরিক স্বাক্ষর করেছেন।



