তীব্র লোডশেডিংয়ে স্থবির দিনাজপুর

১২০-১৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে ৮০-৯০

Printed Edition

দিনাজপুর প্রতিনিধি

তীব্র গরমের সাথে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের জনজীবন। কয়েক দিন ধরে প্রখর রোদ ও ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী ও দিনমজুররা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সড়কে মানুষের চলাচলও কমে যাচ্ছে।

গত রোববার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র গরমে হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া, জ্বরসহ গরমজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। স্থানীয় চিকিৎসকরা প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এলাকায় দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। নেসকো-১ ও ২-এর দৈনিক চাহিদা প্রায় ৫০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট। আর দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর আওতাধীন পাঁচ উপজেলায় ১২০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।