শালিখা (মাগুরা) সংবাদদাতা
মাগুরার শালিখা উপজেলার বিহারি লাল সিকদার সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বিবেকানন্দ শিকদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কলেজের উপাধ্যক্ষ পার্থ কুমার ঘোষ ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকার সুবাদে যোগসাজশ করে অধ্যক্ষের এই সরকারি সুবিধা চালু রেখেছিলেন। সম্প্রতি অধ্যক্ষের অবসরে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী এই আর্থিক অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ভাই বিবেকানন্দ শিকদার ৫ আগস্টের পর থেকে একদিনের জন্যও কলেজে আসেননি। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ইএফটির মাধ্যমে বেতন প্রেরণের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রত্যয়ন বা তথ্য প্রয়োজন হয়। উপাধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অধ্যক্ষের অনুপস্থিতির তথ্য গোপন করে প্রতি মাসেই বেতন তোলার ব্যবস্থা করে দেন। এ বিষয়ে উপাধ্যক্ষ জানান, চলতি এপ্রিল মাসের ১৩ তারিখে অধ্যক্ষের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি অবসরে গেছেন এবং এখন থেকে আর কোনো সরকারি সুবিধা পাবেন না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের শিক্ষকেরা জানান, অধ্যক্ষের দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ দিন পলাতক থেকেও কিভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তা সরকারি কোষাগার থেকে বেতন নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।



