৭ বছরেও নির্মাণ হয়নি রাজাপুরের আয়রন ব্রিজ

Printed Edition
শুক্তাগড় ইউনিয়নের ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার ৭ বছর পরও নির্মাণ করা হয়নি : নয়া দিগন্ত
শুক্তাগড় ইউনিয়নের ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার ৭ বছর পরও নির্মাণ করা হয়নি : নয়া দিগন্ত

এনামুল হক রাজাপুর (ঝালকাঠি)

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের তালুকদারহাট এলাকায় সন্ধ্যা নদীর ওপর নির্মিত আয়রন ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার সাত বছর পার হলেও পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে রাজাপুর, কাউখালী ও ঝালকাঠি সদর উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর ভোরে তালুকদারহাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর ওপর ২২৫ ফুট দীর্ঘ ব্রিজটি গাছবোঝাই একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার ধাক্কায় ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে তিন উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমদিকে কয়েক মাস সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও পরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে খেয়া নৌকা চালু করা হয়। তবে খেয়া পারাপার সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয়রা বাঁশ, কাঠ ও সুপারি গাছ দিয়ে ভাঙা অংশের সাথে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেন। বর্তমানে সেটিই পারাপারের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন। এলাকার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে অস্থায়ী সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, সেতু না থাকায় বাজারে সরাসরি পণ্যবাহী যানবাহন পৌঁছাতে পারে না। নদীর ওপারে মালামাল নামিয়ে মাথায় বা হাতে করে বাজারে আনতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময়, দুই-ই বেড়েছে।

আবু ইউসুফ, মামুনসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত সাত বছরে নতুন সেতু নির্মাণের দাবিতে সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।