সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
জুলাইয়ের চেতনা। এই অঙ্কন শিল্পের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বদলানোর যেই প্রতিবাদ ছাত্রসমাজ দেখিয়েছে সেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে গ্রাফিতি। ফ্যাসিবাদের নারকীয় দুঃশাসনামলেও এটি ছিল গণমানুষের চেনা জানার গণ্ডির বাইরে।
স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পরে তার দুঃশাসনের চিত্রগুলো রংতুলির ছোঁয়ায় দেয়ালে, অলিগলি ও রাজপথে তুলে ধরে শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা জাতিকে নাড়া দিয়েছিল দারুণভাবে। আন্দোলন সংগ্রামের অংশীদার গ্রাফিতি এবার স্থান পাচ্ছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে।
স্বৈরাচার পতনের দিবসে উদ্বোধন হতে যাওয়া জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে গ্রাফিতিকে একটি অনন্য প্রতিবাদী শিল্পকর্মের স্বীকৃতি দিয়ে জাদুঘরের গ্যালারির শোভাবর্ধনের পাশাপাশি জাতির সামনে জুলাইয়ের ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আর সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানিক মিয়া এভিনিউতে ৩৫০ ফিট ক্যানভাস কাপড়ের ওপর রংতুলির ছোঁয়ায় শিল্পের সুষমার অনবদ্য শিল্পকর্ম গ্রাফিতি তৈরি করেছেন ১১ শিল্পী। তারা হলেন এ.এছেন, মাক্রাইওয়াং, ফারজানা আহমেদ উর্মি, ফারিয়া খানম তুলি, আশাং মং, বিলাস মন্ডল, জয়তু চাকমা, প্রগতি চাকমা, ইয়াইয়ং ম্রো, অনন্য চাকমা ও আসুফল চাকমা।
জোড়া লাগানো সেই ৩৫০ ফিটের ক্যানভাস কাপড়ের ওপর অঙ্কিত বিশালাকৃতির গ্রাফিতি জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে আগত দর্শনার্থীদেরকে ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন ও ছাত্র আন্দোলনের অগ্নিঝরা দিনগুলোর কথাই মনে করিয়ে দিবে বলে মনে করেন গ্রাফিতির এ ১১ জন আঁকিয়ে। তারা বলেন, এটি শুধু শিল্পকর্ম নয়, এটি জনগণের অধিকার আদায় ও প্রতিবাদের ভাষাও।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের উদ্যোগে জাতীয় সংসদের সামনের মানিক মিয়া এভিনিউতে গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত চলে এই গ্রাফিতি অঁাঁকা কর্মশালা। সকালে এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। পরে তিনি গ্রাফিতি অঙ্কন পরিদর্শন এবং নিজে অঙ্কনে অংশ নেন।
মন্ত্রী বলেন, ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে গ্রাফিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, পাহাড়ি-সমতল বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সবাই মিলে আগস্টের ৫ তারিখ পর্যন্ত দুনিয়া কাঁপানো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলনের ম্যাধ্যমে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে বাংলাদেশকে আমাদের সন্তানরা নিরস্ত্র লড়াই করেছে, মহান আত্মত্যাগ করেছে। ওরাই বাংলাদেশ। সবার উপরে বাংলাদেশ এইতো আমাদের স্লোগান।
জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব বলেন, জুলাই আন্দোলনে গ্রাফিতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে স্মরণ করা এবং জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই আজকের এ আয়োজন।
গ্রাফিতি সাধারণত দেয়ালে আঁকা হয়। আজকে শিল্পীরা ক্যানভাসে আঁকছেন। জাতীয় সংসদের সামনে আজকের আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ কারণে। কেননা, জাতীয় সংসদ একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। গ্রাফিতি হচ্ছে পাবলিক আর্ট। জনগণ যাতে এতে অংশ নিতে পারে সেজন্য এ ব্যবস্থা; জনগণই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণ করেছেন। গ্রাফিতি মানুষের হৃদয়ের কথা বলে।



