ক্রীড়া ডেস্ক
টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের লড়াই শেষ হয়েছে। এবার সেরা আট দল নিয়ে শুরু হচ্ছে রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় পর্ব। দু’টি গ্রুপে ভাগ হয়ে সেমিফাইনালের জন্য লড়বে আটটি দল। সুপার এইটের জমজমাট সেই লড়াইয়ে আজ কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড।
গ্রুপ-২ এর উদ্বোধনী এই লড়াই দুই দলের জন্যই টুর্নামেন্টের সেমিতে যাওয়ার পথ নির্ধারণ করে দিতে পারে। বিশেষ করে ধীরগতির কলম্বো উইকেটে স্পিনই যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রক শক্তি হতে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই।
সুপার এইট পর্ব খেলতে নিউজিল্যান্ড যখন শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছে, তখন গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়েছেন মিডল-অর্ডার ব্যাটার মার্ক চ্যাপম্যান। তিনি জানিয়েছেন, কানাডার বিপক্ষে অসুস্থতার কারণে খেলতে না পারা মিচেল স্যান্টনার সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং শনিবার পাকিস্তানের বিপে ম্যাচে একাদশে থাকার কথা। সেই মাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ড্যারেল মিচেল।
তবে লকি ফার্গুসনের ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত নয় দল। নিজের প্রথম সন্তানের জন্মের কারণে তিনি নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিলেন এবং শুক্রবার রাতেই শ্রীলঙ্কায় পৌঁছানোর কথা। কলম্বোতে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাওয়াতে এক পেসার কমিয়ে বাড়তি স্পিনার খেলাতে পারে কিউইরা। সেক্ষেত্রে ইশ সোধি দলে জায়গা পেতে পারেন।
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের শক্তি মূলত ওপেনিং জুটি ফিন অ্যালেন ও টিম সাইফার্টকে ঘিরে। পাওয়ারপ্লেতে এই দু’জন আগ্রাসী সূচনা এনে দিয়েছেন একাধিক ম্যাচে। কিন্তু সমস্যা মিডল অর্ডারে। গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রবীন্দ্র, মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারেল মিচেলের ধারাবাহিকতার অভাব ব্ল্যাক ক্যাপসদের চিন্তায় ফেলেছে। রবীন্দ্র চার ম্যাচে ৭২ রান করলেও তার ৫৯ এসেছে এক ম্যাচেই। ফলে পাকিস্তানের বৈচিত্র্যময় স্পিন আক্রমণের সামনে তাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে।
নিউজিল্যান্ডের পেস আক্রমণ লকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, জ্যাকব ডাফি ও জেমস নিশাম এখন পর্যন্ত কিছুটা খরুচে। ধীর উইকেটে সাফল্য পেতে হলে তাদের নাকল বল, স্লোয়ার বাউন্সার ও লেগ কাটারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
অন্য দিকে পাকিস্তান ইতোমধ্যে কলম্বোতে দু’টি ম্যাচ খেলেছে। উইকেটের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে তাদের বোলারদের ধারণা পরিষ্কার রয়েছে। উসমান তারিক, আবরার আহমেদ, সাইম আইয়ুব, মোহাম্মদ নওয়াজ ও শাদাব খানের সমন্বয়ে গড়া স্পিন ইউনিট যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলতে সম। বিশেষ করে উসমান তারিক মাঝের ওভারে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়ার সামর্থ্য দেখিয়েছেন।
ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে নামিবিয়ার বিপে বড় জয়ের পর। সেই ম্যাচে শতরান করে আলো কাড়েন সাহিবজাদা ফারহান। তবে বড় উদ্বেগ বাবর আজমের ফর্ম। চার ম্যাচে মাত্র ৬৬ রান করে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না।
এ দিকে ম্যাচের কৌশলগত দিক থেকে পাকিস্তান স্পিননির্ভর পরিকল্পনাতেই এগোবে, আর নিউজিল্যান্ড চাইবে পাওয়ার প্লের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ১৭০-১৮০ রানের আশেপাশে স্কোর গড়তে। সুপার এইটের কঠিন সমীকরণে এই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করতে পারে সেমিফাইনালের পথে কে এগিয়ে থাকবে।
সবমিলিয়ে স্পিনের কারিকুরি আর পাওয়ার হিটিংয়ের দ্বৈরথে জমজমাট এক লড়াই অপো করছে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য।
নামিবিয়ার বিপে টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়ে সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করার পর শাদাব খান বলেছেন, পাকিস্তান এখন বিশ্বাস করে তারা টি-২০ বিশ্বকাপ জিততে পারে। ভারতের বিপে পরাজয়ের পর যে দলটি ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল, তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে শক্ত বার্তাই দিয়েছে।
নামিবিয়ার বিপে ম্যাচে ২২ বলে ঝড়ো ৩৬ রান করার পাশাপাশি ৩ উইকেট নিয়ে ১৯ রান দেন শাদাব। তিনি বলেন, ভারতের বিপে একটি ম্যাচ নিয়ে এত আলোচনা হওয়ার পরও আমরা নামিবিয়া ম্যাচকে হালকাভাবে নিইনি। বিশ্বকাপ জয়ের ল্য পূরণে আমরা সঠিক পথেই আছি। আমরা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছি।
গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জয় পেলেও ভারতের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে পরাজয়ে টুর্নমেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে। তবে শেষ ম্যাচে নামিবিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করে।
এ দিকে নিউজিল্যান্ড গ্রুপ লিডার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭ উইকেটের বড় মার্জিনে হারলেও কানাডা, আফগানিস্তান ও আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয়ে শীর্ষ আটে নাম লেখায়।
পাকিস্তানের সাথে টি-২০ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৭ দেখায় ৫ বার হারের তিক্ত স্বাধ পায় কিউইরা। তবে সব সমীকরণ ও পরিসংখ্যান পাশে রেখে উভয় দলই আজকের ম্যাচে জয় পেতে মরিয়া। সবমিলে এ ম্যাচ ঘিরে অন্যরকম এক রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে ক্রিকেট বিশ্বের জন্য।



