পাঁচ হাজারি ক্লাবে মুমিনুল

Printed Edition
ফিফটি করার পর দর্শকদের উদ্দেশে ব্যাট উঁচিয়ে জবাব দিচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পাশে সে দৃশ্য দেখছেন অর্ধশত করা অপর ব্যাটার মুমিনুল হক : নাসিম সিকদার
ফিফটি করার পর দর্শকদের উদ্দেশে ব্যাট উঁচিয়ে জবাব দিচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পাশে সে দৃশ্য দেখছেন অর্ধশত করা অপর ব্যাটার মুমিনুল হক : নাসিম সিকদার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টেস্টে পাঁচ হাজার রানের ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন মুমিনুল হক। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানে আউট হন তিনি। এ নিয়ে টানা পাঁচ ইনিংসে ফিফটি করলেন তিনি। এই ইনিংস খেলার পথে টেস্ট ক্যারিয়ারের পাঁচ হাজার পূর্ণ করেন এই বাঁ হাতি ব্যাটার।

সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে নামার আগে মুমিনুলের পরিসংখ্যান ছিল ৭৫ ম্যাচে ৪৮৫৯ রান। এ ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৯১ রান করেন তিনি। ফলে তার টেস্ট ক্যারিয়ারের রান গিয়ে দাঁড়ায় ৪৯৫০-এ। তাই পাঁচ হাজার রান থেকে ৫০ রান দূরে ছিলেন। ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিয়ারের ২৭তম হাফ-সেঞ্চুরিতে পা দিয়ে পাঁচ হাজার রানের মালিক হন তিনি। ৭৬ টেস্টে এখন তার রান ৫০০৬।

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির সুবাতাস পেয়েও তিন অঙ্ক থেকে ৯ রান দূরে থাকতে আউট হয়েছেন মুমিনুল। দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটিটা স্বচ্ছন্দে করতে পারেননি। ১৫ ও ৪৩ রানে দুইবার জীবন পেয়েছেন বাংলাদেশের এই বাঁ হাতি ব্যাটার। বেশ কয়েকবার ব্যাটের কানায় লেগে চার হয়েছে বারবার। ফিফটির পর যোগ করতে পেরেছেন কেবল ৬ রান।

পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসই এগোচ্ছে একই চিত্রনাট্য মেনে। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও সাদমান ইসলাম-মাহমুদুল হাসান জয় দ্রুত বিদায় নিয়েছেন। ২৩ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরতে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুলকে। দ্বিতীয় ইনিংসে তৃতীয় উইকেটে তারা (শান্ত-মুমিনুল) ১৯৩ বলে ১০৫ রানের জুটি গড়েছেন। ৪৩তম ওভারের পঞ্চম বলে মুমিনুলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। আফ্রিদির ইনসুইং ডেলিভারি মুমিনুলের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় পাকিস্তানি উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে।

মুমিনুলের আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে পাঁচ হাজার রান পূর্ণ করেন মুশফিকুর রহীম ও তামিম ইকবাল। ১০০ টেস্টে ৬৫৮১ (মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংস পর্যন্ত) রান নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড মুশফিকের। সর্বোচ্চ ১৩টি করে সেঞ্চুরি আছে মুশফিক ও মুমিনুলের। পাশাপাশি মুশফিক ২৯টি ও মুমিনুল ২৭টি হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকান।

৭০ টেস্টে ৫১৩৪ রান নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন তামিম ইকবাল। ১০ শতকের সাথে ৩১টি অর্ধশতক আছে এই বাঁ হাতি ব্যাটারের। ৭১ ম্যাচে পাঁচ সেঞ্চুরি ও ৩১ হাফ-সেঞ্চুরিতে ৪৬০৯ রান নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে আছেন সাকিব আল হাসান। পঞ্চম স্থানে আছেন লিটন দাস। ৫২ ম্যাচে ৩১৫০ রান (মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংস পর্যন্ত) করেছেন তিনি।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গত বছরের নভেম্বরে টেস্ট সিরিজে তিন ইনিংসে ফিফটি করেছিলেন মুমিনুল। সিলেটে এক ইনিংসই ব্যাটিং করেছিল বাংলাদেশ, তাতে করেছিলেন ৮২। এরপর মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসে ৬৩ ও ৮৭। চলমান মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৯১, পরের ইনিংসে ৫৬। টানা পাঁচ ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি আছে তামিম ইকবালেরও। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে টানা পাঁচ ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান করেছিলেন তামিম। এর মধ্যে লর্ডস ও ম্যানচেস্টারে বিখ্যাত সেই দুই সেঞ্চুরিও আছে।

টানা ফিফটির অভ্যাস মুমিনুলের ক্যারিয়ারে নতুন নয়। ২০১৩ ও ২০১৪ সাল মিলিয়ে টানা ১১ টেস্টে ফিফটি করেছিলেন মুমিনুল। বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যানের এমন কীর্তি নেই। আর একটি ম্যাচে ফিফটি করলেই বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়ে ফেলতেন মুমিনুল। টানা ১২ টেস্টে ফিফটির বিশ্বরেকর্ডটি ছিল প্রোটিয়া কিংবদন্তি এ বি ডি ভিলিয়ার্সের। পরে তাকে ছুঁয়েছেন ইংল্যান্ডের জো রুট।