লোহিত সাগরে তেলের ট্যাংকারে হামলায় শাস্তির হুমকি ট্রাম্পের

Printed Edition

রয়টার্স

লোহিত সাগরে দু’টি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর ইরান ও তাদের ইয়েমেনি সহযোগী হাউছিদের ‘কঠোর সামরিক শাস্তি’ দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইয়েমেনি যোদ্ধাদের ওই হামলার মধ্য দিয়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরো একটি প্রধান নৌপথে ছড়িয়ে পড়ল।

এদিকে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। মে মাসের পর প্রথমবারের মত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর টানা ১৩ দিন ধরে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। বৃহস্পতিবার গভীর রাত ও শুক্রবার ভোরেও ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। জবাবে প্রতিবেশী যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটানো এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা বাড়াচ্ছ।

এদিকে ইরানের আহওয়াজ শহরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি। সৌদি ট্যাংকারে হামলার পর ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হাউছিদের যে কোনো পরবর্তী তৎপরতার জন্য সরাসরি ইরানকেই জবাবদিহি করতে হবে। ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হাউছি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের ওপর ‘নৌ অবরোধ’ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে সৌদি আরব এতদিন পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগর দিয়ে দৈনিক লাখ লাখ ব্যারেল তেল পাঠাচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘হাউছিরা মূলত ইরানেরই প্রতিনিধি। তারা যদি আবারো এমন ঘটনা ঘটায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানকে দায়ী করবে এবং ইরান ও হাউছিদের কঠোর সামরিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে।’ সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানে নতুন করে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরুর খুব কাছাকাছি রয়েছেন। তিনি বলেন, তারা এখনো যথেষ্ট শিক্ষা পায়নি।’

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজের সমস্ত ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্রে আটকে রাখা ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ থেকে মেটানো হবে। তবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, অন্য দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার এই প্রবণতা একটি ‘বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক নজির’, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ডেকে আনবে।