আলজাজিরা
ইরানের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের অব্যাহত অর্থনৈতিক অবরুদ্ধকরণের দীর্ঘমেয়াদি নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই উল্টো ফল ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন হোয়াইট হাউজের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক নীতিনির্ধারক ও সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্ক গিন্সবার্গ। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বর্তমান কৌশলগত বিপজ্জনক অবস্থানকে একটি উচ্চঝুঁকির ‘অর্থনৈতিক চিকেন গেম’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি মত প্রকাশ করেছেন যে, তেহরান নয়, শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনকেই সমঝোতা বা পিছু হটার পথ বেছে নিতে হতে পারে। আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই কূটনীতিবিদ এসব কথা বলেন।
গিন্সবার্গ জানান, তেহরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের ধারা ওয়াশিংটনের জন্য পুরনো হলেও বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই ব্যতিক্রমী। কারণ, বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী এখন সরাসরি সঙ্ঘাতের মধ্যবিন্দুতে রূপ নিয়েছে এবং ইরান তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। তবুও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কার্যকর শেষ কৌশলের অনুপস্থিতির কারণে ট্রাম্পের এই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক আক্রমণ মার্কিন প্রশাসনকেই নীতিগত সঙ্কটে ফেলবে বলে তার মত। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হওয়ায় একে ঘিরে সঙ্ঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতদিন ধরে তেহরান এই প্রণালীকে নিজেদের ভৌগোলিক ও কৌশলগত দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ফলে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা ও আন্তর্জাতিক বাজারকে সামাল দেওয়াই ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের বিদ্যমান ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত জানান, তেহরানকে রাতারাতি নীতি বদলাতে বাধ্য করার যে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। যেকোনো সঙ্ঘাতের আগে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের মতো এখানেও কে আগে সরবে, সেই প্রশ্ন প্রধান হয়ে উঠেছে। গিন্সবার্গের মতে, আলোচনা ও রাজনৈতিক সমাধানের স্পষ্ট পথনকশা না থাকলে হরমুজ প্রণালীর সঙ্কট শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নতি স্বীকার করতে বাধ্য করবে।



