এবার ভারত জয়ের পালা

বাংলাদেশের লক্ষ্য হ্যাটট্রিক শিরোপা, স্বাগতিকদের পুনরুদ্ধার

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

১৯৯৫ সালে মিয়ানমারের চার জাতি ফুটবল দিয়ে বাংলাদেশের ট্রফি জয়ের শুরু। এরপর একে একে বাফুফের শো কেসে জমা হয়েছে অনেক ট্রফি। সিনিয়র পুরুষ ও নারী সাফ, সাফ গেমস, এসএ গেমস, বয়সভিত্তিক পুরুষ ও নারী সাফ সব আসরেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এখন পর্যন্ত ভারতের মাঠে বাংলাদেশ দল কোনো লেভেলে কোনো ট্রফি জিততে পারেনি। ক্লাব লেভেলে অবশ্য একাধিকবার এই অর্জন আছে। বাংলাদেশের ফুটবলে যা কিছু অর্জন নিজ দেশের সাথে নেপাল, ভুটান এবং সর্বশেষ মালদ্বীপের মাঠে। ভারতের মাঠে কোনো ট্রফি জেতা হয়নি; বরং বারবারই ভারতের মাঠ থেকে হতাশা নিয়ে ফেরা। এবার নারী ফুটবলারদের পালা সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটানো। এই মিশনেই আজ নারী সাফের ফাইনালে খেলতে নামছে বাংলাদেশ দল। গোয়ার মারগাঁও স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ যদি হারাতে পারে স্বাগতিকদের তাহলে তাদের হবে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়। অন্য দিকে টানা দুই ব্যর্থতার পর এবার ভারতের লক্ষ্য সাফ অঞ্চলের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পাওয়া।

গ্রুপ পর্বে হেরে এরপর শিরোপা জেতার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের। তা ১৯৯৯ সালের কাঠমান্ডু সাফ গেমসে। প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের কাছে হেরেও এরপর সেই আসরে স্বর্ণ জিতেছিল আলফাজ আহমেদরা। এবার কি মারিয়া মান্ডারা সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারবেন গোয়ার মাঠে। পিটার বাটলারের দল মালদ্বীপের বিপক্ষে জয়ে এবারের সাফ ফুটবল শুরু করলেও পরের ম্যাচে ভারতের কাছে বাজে হার বরণ করে। ভারতীয়রা ৩-০ গোলে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। সেই ধাক্কা সামলিয়ে ঋতুপর্না চাকমারা পরের ম্যাচে সেমিফাইনালে নেপালকে হারিয়ে জায়গা করে নেয় ফাইনালে। অন্য দিকে ভারত সেমিতে ভুটানকে ১-০ তে পরাজিত করে আজকের সেমিফাইনালে।

লিগ পর্বে একই দলের কাছে হেরে এরপর ফাইনালে তাদেরকে হারিয়ে কিভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায় তা এ বছর নেপালের পোখরায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ সাফে দেখিয়েছিল ভারত। তারা প্রথমে বাংলাদেশের কাছে ০-২ গোলে পরাজিত হয়েছিল। এরপর ফাইনালে তারা সেই হারের বদলা নেয় বাংলাদেশকে ৪-০তে উড়িয়ে। এখন বাংলাদেশ দলের পালা সেই গ্রুপ পর্বে হারের প্রতিশোধ নেয়ার।

ভারতের মাঠে বাংলাদেশের ফাইনাল স্মৃতি মোটেই ভালো নয়। ১৯৯৫ সালের মাদ্রাজ সাফে এই ভারতের কাছে ০-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবজুরা। এই গোয়ার মাঠেই ১৯৯৯ সালের সাফ ফুটবলের ফাইনালে বাংলাদেশ ০-২ গোলে হেরেছিল ভারতের কাছে। ২০১৬ সালে ভারতের শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশ ১-৩ গোলে ধরাশায়ী হয়েছিল স্বাগতিকদের কাছে। যদিও গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ গোলশূন্যতে ড্র করেছিল তাদের সাথে। ২০২২ সালে ভারতের জামশেদপুরে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৮ নারী সাফে বাংলাদেশ লিগ পর্বের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ০-১ গোলে হেরেছিল। তাই শিরোপা জেতার জন্য ফিরতি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় দরকার ছিল গোলাম রাব্বানী ছোটন বাহিনীর। কারণ ভারত বড় ব্যবধানে জিতেছিল নেপালের বিপক্ষে, কিন্তু বাংলাদেশ আকলিমা খাতুনের গোলে ১-০তে জিতলেও গোল গড়ে পিছিয়ে থেকে রানার্সআপ হয়।

সে বছরই ভারতের ভূবনেশ^রে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ সাফে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে তাদের ২-১ গোলে হারিয়েছিল পিয়াস আহমেদ নোভার গোলে। অথচ ফাইনালে গিয়ে ২-৫ গোলে ধরাশায়ী হওয়া। এবার নারী ফুটবল দলের সেই ব্যর্থতার পালার অবসান ঘটানোর পর্ব।

এই আসরে ভালো খেলতে পারছে না নেপালের মাঠে ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচের দু’টিতে জিতলেও তাদের খেলায় সেই দাপট ছিল না। কোচ বাটলারও তিন ম্যাচে ঠিক করতে পারেননি সেরা একাদশ। একেক দিন একেক জনকে প্রথম ১১ জনে জায়গা দিয়েছেন। ইনজুরিও ভোগাচ্ছে। মাঝমাঠের বড় তারকা মনিকা চাকমার চোট। নেপাল ও ভারতের বিপক্ষে পুরো সময় খেলা হয়নি তার। ছোট শামসুন্নাহার ,তহুরা খাতুন, সৌরভী আকন্দ প্রীতি, উমেহেলা মারমারাও ৯০ মিনিটে খেলার সুযোগ কমই পেয়েছেন।

কোচও জানেন বিষয়টি। তাই তার জবাব, ‘আমরা ফাইনালে উঠেছি। আপনি যখন কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেন সেখানে সুন্দর ফুটবলের চেয়ে রেজাল্টই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বড় বড় দলও সেমিফাইনাল এবং ফাইনালে ভালো ম্যাচ উপহার দেয় না, বরং কৌশলে ম্যাচ খেলে বের করে নেয় রেজাল্ট।’ তার মতে, ‘এটি ফাইনাল ম্যাচ। বাঁচা মরার লড়াই। আমরা এই ম্যাচে আক্রমণাত্মক খেলবো। শুরুতেই চান্স তৈরি করে গোল আদায় করতে পারলে রেজাল্ট অন্য রকম হবে।’