- ঢাকাকে ‘ক্লিন-গ্রিন’ নগরী করতে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা
- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডে সহায়তা দিতে টাকা ছাপাব না
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে
প্রবল বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের টানা তিন মাস সরকারি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এরই মধ্যে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি কলিম উদ্দিন আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ পদক্ষেপের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়াও আরো কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তারেক রহমান। প্রশ্নত্তর পর্বে ঢাকাকে ‘ক্লিন-গ্রিন’ নগরী করতে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডে সহায়তা দিতে টাকা না ছাপানোর কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
বেলা ১১টায় স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।
তারেক রহমান বলেন, তিন দিন আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে যেসব কৃষকের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে যোগদানের আগেই তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর সাথে এই সঙ্কট মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে কথা বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো কৃষক যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে দিকে সরকার কঠোর নজরদারি রাখছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহসহ তিনটি নির্দিষ্ট জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আগামী তিন মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে এই সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেয়ার কথা জানান সংসদ নেতা।
এর আগে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ের নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে একটি সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রবল বর্ষণে সব হাওর তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা ধান কাটতে মাঠে লড়াই করছেন। এ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
ঢাকাকে ‘ক্লিন-গ্রিন’ নগরী করা হবে : রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বহুমাত্রিক পরিকল্পনার কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি দলের এমপি মো: আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, রাজধানী ঢাকাকে ‘ক্লিন’ ও ‘গ্রিন’ নগরী রূপে গড়ে তুলতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়কদ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানগুলো সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এই সিটি করপোরেশন কোরিয়াভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্যব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সব বর্জ্যকে ‘জিরো’ বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) উন্মুক্ত মিডিয়ান জিরো সয়েল-সবুজে আবৃত করা হচ্ছে। সিটির আওতাধীন এলাকায় আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশ (মিরপুর ১২ নম্বর থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (আবদুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত) নিচের খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণ করা হবে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নেয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ অধিদফতর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস এবং ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। কালো ধোঁয়া নির্গমণকারী যানবাহন, কনস্ট্রাকশন কার্যক্রম ও নির্মাণসামগ্রী দ্বারা বায়ূদূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীর বায়ূদূষণ কমানোর লক্ষ্যে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলাকে ডিগ্রেডেড এয়ারশেড ঘোষণা করা হয়েছে। এই এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো ইত্যাদি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের নদী-খাল-জলাশয় দূষণরোধে তরল বর্জ্য নির্গমণকারী প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৪৮টি ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে। স্থাপিত ইটিপি রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের জন্য ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) ক্যামেরা স্থাপন চলমান।
ঢাকা মহানগরে প্রবাহিত ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস ও প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকাকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি রূপে গড়ে তুলতে বনায়নযোগ্য খালি জায়গায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে আছে দেশের সব অংশে পর্যায় ক্রমে মৌলিক সুবিধা গড়ে তোলা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। এসব সুবিধা যদি গড়ে তোলা যায়, তা হলে মানুষ ঢাকা শহরে আসার জন্য কম উৎসাহিত হবে। ধীরে ধীরে ঢাকার ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।
ময়মনসিংহ-৬ আসনের এমপি কামরুল হাসানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে ময়মনসিংহের শহরের পরিধি বেড়েছে। আমার নিজ জেলায় (বগুড়া) একটি বাইপাস আছে, যেটি শহরকে বাইপাস করে চলে গেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সে বাইপাসের দুই পাশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এখন মনে হচ্ছে, বাইপাসকে বাইপাস করার জন্য আরেকটা বাইপাস দরকার। হয়তো বা ময়মনসিংহ রেলস্টেশন শহর থেকে অন্য দিকে নেয়া যাবে। কিন্তু আমাদের দেশ আয়তনে ছোট। অনেকগুলো বিষয় চিন্তা করতে হয়। জমি নষ্ট করবেন কি না, অর্থ ব্যয় করবেন কি না, সব কিছু বিবেচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। সব শহরের জন্যই বড় পরিকল্পনা প্রয়োজন।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডে সহায়তা দিতে টাকা ছাপাবো না : ফ্যামিলি কার্ডধারী চার কোটি পরিবার এবং কৃষি কার্ডধারী পৌনে তিন কোটি কৃষককে অর্থ সহায়তা হিসাব-নিকাশ করে দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এটা বাজেটে কিংবা মূল্যস্ফীতিতে কোনো চাপ ফেলবে না বলে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা টাকা ছাপিয়ে এসব কার্ডের অর্থ দেবো না। এক সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে হলে বছরে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এর প্রক্রিয়াগত ব্যয়সহ খরচ হবে এক লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। আবার দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেয়া হবে। সেখানে সাত হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এটি দেশের অর্থনীতিকে কতটুকু স্বনির্ভর করবে? এ অর্থ কি বর্তমানে চলা সামাজিক সুরক্ষা খাত থেকে কেটে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে, নাকি নতুন করে এ খাতে টাকা দেয়া হচ্ছে?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা জনগণকে বলেছিলাম নির্বাচনের আগে, সেই ফ্যামিলি কার্ডটি মানুষ গ্রহণ করেছে এবং আপনি (হাসনাত আবদুল্লাহ) নিজেও সাক্ষী। আপনার নির্বাচনী এলাকায় আপনাকেও নারীরা ঘিরে ধরেছিল ফ্যামিলি কার্ড চাওয়ার জন্য। আপনি উত্তরে বলেছেন, যে মুহূর্তে ফ্যামিলি কার্ড সরকার দেবে, আপনি চেষ্টা করবেন তাদের ডিস্ট্রিবিউট করার।
পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো সরকারের একবারে এটা করা সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে বাজেট তৈরি করে কার্ড দেয়া বাড়ানো হবে। সে কারণে বাজেটের ওপর চাপ পড়ার তেমন কারণ নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ বলছেন জামা-কাপড় কিনবে, কেউ বলছে বাচ্চাদের জন্য বই কিনবে। যে মানুষগুলো পাচ্ছে, তারা ব্র্যান্ডের জিনিস ব্যবহার করে না। তাদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র দেশীয় কারখানায় তৈরি। ফ্যামিলি কার্ডের টাকা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছড়াবে। এটা স্থানীয় শিল্পায়নে ভূমিকা রাখবে, কর্মসংস্থান বাড়াবে।
তারেক রহমান বলেন, এটা (ফ্যামিলি কার্ড) রাষ্ট্রের একটা বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। তাই আমাদের হিসাব হচ্ছে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না, বরং কমবে।
জলাবদ্ধতায় দুঃখ প্রকাশ : জলাবদ্ধতার কারণে কষ্টের শিকার হওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগরের বাসিন্দাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব, এই সমস্যা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে সরকার। এর আগে চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি সাঈদ আল নোমান সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।
এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অনেক বড় ওয়াটার লগ হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে একটু সময় লাগবে। এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সব নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মানুষকে যেন বের করে নিয়ে আসা যায়।
সংসদ নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমগ্র বাংলাদেশে খাল খননের মাধ্যমে রিজার্ভার তৈরি করেছিলেন, একই সাথে বন্যা বা জলাবদ্ধতাও দূর করেছিলেন। একই কাজে আবার ফিরে যেতে হবে। বর্তমান সরকার সে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কাজও শুরু হয়েছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা শেষ হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে একটি সমীক্ষা সমাপ্ত করেছে। গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো: মাজেদুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এ কথা বলেন।
সুন্দরগঞ্জের তিস্তা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নদী খননের পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে কবে নাগাদ শুরু হবে মাজেদুর রহমানের এ প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদী দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-প্রকৃতিগতভাবে তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। বর্ষা মৌসুমের অতিবৃষ্টিতে এ অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও নদী ভাঙনের ঘটনা ঘটে। পক্ষান্তরে, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে অনেক স্থানে প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির সাথে ব্যাপক মাত্রায় পলি প্রবাহের কারণে তিস্তা নদী ভরাট হয় এবং একাধিক চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, এ পরিপ্রেক্ষিতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে একটি সমীক্ষা সমাপ্ত করেছে। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং কাজ বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যার মধ্যে গাইবান্ধা-১ নির্বাচনী এলাকার তিস্তা নদীর অংশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গুচ্ছগ্রাম-৩ পর্যায় প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘গুচ্ছগ্রাম-৩ পর্যায় প্রকল্প’ গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো: হাফিজ ইব্রাহিমের করা নির্ধারিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা জাতীয় সংসদে এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় পরিবারের জন্য টেকসই বাসস্থান এবং তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর।’
হঠাৎ অসুস্থ বিরোধীদলীয় এমপির খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী : জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের এমপি হাফেজ রবিউল বাশার। পরে অন্যান্য সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মীদের সহায়তায় তাকে অধিবেশন কক্ষ থেকে সংসদ লবিতে নেয়া হয়, সেখানে চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের। আলোচনা করছিলেন বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তাকে থামিয়ে দিয়ে বিষয়টি সবার নজরে আনেন। এ সময় সবাই হতচকিত হয়ে পড়েন। সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা তার সাহায্যার্থে এগিয়ে যান।
স্পিকার এ সময় বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য একটু অপেক্ষা করেন, আমাদের একজন সংসদ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সংসদ সদস্য হাফেজ রবিউল বাশার কি অসুস্থ? এখানে একজন ডাক্তার রয়েছেন, আমরা পাঠাচ্ছি। এর পর লবিতে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
জোহরের নামাজের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ লবিতে গিয়ে অসুস্থ বিরোধী দলীয় এই সংসদ সদস্যের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এ সময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপসহ অন্যান্য হুইপরা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানের বিশেষ দূতের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছে জাপানের বিশেষ দূত কৃষিমন্ত্রী সুজুকি নরিকাজুর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। গতকাল বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
বৈঠকে জাপানি প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় ১৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদানের কথা জানায়। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ওপর জোর দেন। জাপানের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, মেট্রোরেল প্রকল্প এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত ও নির্বিঘœভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে জাপানি পক্ষ গুরুত্বারোপ করেছে, প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
এই সাক্ষাতের সময় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এবং জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এ লক্ষ্যে কৃষি খাত, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল খাতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী জাপানে বাংলাদেশী জনশক্তি রফতানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি খাতে দক্ষ জনবল পাঠানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। জাপানি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।



