আল আকসায় ইসরাইলি তাণ্ডবের নিন্দা ৮ মুসলিম দেশ ও জাতিসঙ্ঘের

Printed Edition

আলজাজিরা

অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের ঐতিহাসিক আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে চার হাজার ২০০ জনেরও বেশি চরমপন্থী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর অনুপ্রবেশ ও তাণ্ডবের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আটটি আরব ও মুসলিমপ্রধান দেশ ও জাতিসঙ্ঘ।

গতকাল শুক্রবার মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জর্দান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান যে, ইসরাইলি চরমপন্থী মন্ত্রীদের নেতৃত্বে ও পুলিশের নিরাপত্তায় এই বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এ ধরনের উসকানিমূলক কাজ ঘৃণা ও চরমপন্থা বৃদ্ধি করে এবং দুই রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা মন্তব্য করেন।

ইহুদিদের টিশা বি’আব উৎসব উপলক্ষে ইসরাইলের চরমপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটে। সেই সময়ে ইসরাইলি পুলিশ মসজিদ প্রাঙ্গণে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে এবং কয়েকজন সাধারণ ফিলিস্তিনির ওপর হামলা চালায় বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পবিত্র এই স্থানের ঐতিহাসিক ও আইনি মর্যাদা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে যৌথ বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয় যে অধিকৃত জেরুসালেম বা এর ইসলামিক ও খ্রিষ্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরাইলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। একই সাথে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দৃঢ় অবস্থান নেয়ার জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে।

তেমনি আল আকসা মসজিদে ইসরাইলের এক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উগ্রপন্থীদের অনুপ্রবেশকে পবিত্র স্থানটির স্থিতাবস্থার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছে জাতিসঙ্ঘ। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। জাতিসঙ্ঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে এই অনুপ্রবেশের বিষয়ে কথা বলেন। জেরুসালেমে ইহুদি, খ্রিষ্টান ও ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থানগুলোর স্থিতাবস্থা বজায় রাখা অপরিহার্য বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘জেরুসালেমের পবিত্র স্থানগুলোর একটি নির্দিষ্ট স্থিতাবস্থা রয়েছে। এই স্থিতাবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সবার দায়িত্ব।’

সব ধর্মের অনুসারীরা যেন স্বাধীনভাবে তাদের নিজ নিজ পবিত্র স্থানগুলো পরিদর্শন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যে ধরনের কার্যক্রম দেখেছি, তা এই স্থিতাবস্থার জন্য খুবই বিপজ্জনক।’