নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্দুক ঠেকিয়ে যাদের ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেড়ে নেয়া হয়েছিল, তাদের মালিকানা ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। গতকাল সোমবার দুপুরে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানানো হয়। ৭ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় ইসলামী ব্যাংকের হাজার-হাজার নারী-পুরুষ শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক।
অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, অনতিবিলম্বে পরামর্শের ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন করতে হবে, বন্দুক ঠেকিয়ে যাদের কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেড়ে নেয়া হয়েছিল, তাদের মালিকনা ফেরত দিতে হবে, ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্র্যাইবুনাল গঠন করতে হবে, ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে এবং স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে বিরত থাকতে হবে, লুটের অর্থ পুনরুদ্ধারে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে হবে’, ‘ব্যাংক লুটেরাদের বিচার না করে তাদের পুনর্বাসন করার ব্যবস্থার ব্যাংকিং রেজুলেশন আইন ১৮/ক ধারা সংশোধন করতে হবে, জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অসত্য বক্তব্য ও ডাকাত এস আলমের হাতে ব্যাংক তুলে দেয়ার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেয়ার যেই চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র চলমান সেটি বন্ধ করতে হবে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের আমানতের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে। ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় জড়িত ব্যক্তি ও শেয়ারহোল্ডারদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে ব্যাংকের তারল্য সঙ্কট নিরসন ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। তিনি বলেন, যাদের হাত ধরে ইসলামী ব্যাংক বিশ্ব সেরা ব্যাংক হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছে তাদের নেতৃত্ব ব্যতীত ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে না।
অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের উপযোগী কোনো পর্ষদ গঠন না করে সমস্যা আরো ঘনীভূত করছে। আমাদের দাবি ছিল এস আলমের দোসর ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের পদত্যাগ এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক সেটি না করে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে আবার এক ব্যক্তির হাতে পুরো ক্ষমতা তুলে দিয়েছে! যা একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয় যে, লেনদেন সচল রাখার জন্য কিছু ফান্ড সরবরাহ করা হয়েছে এবং গ্রাহকদের দাবির মুখে চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে একদিকে যেমন আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে অপর দিকে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম তদারকি করে সুশাসন নিশ্চিত করবে। কোনো ব্যাংকে অনিয়ম, দুর্নীতি বা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরিতাপের বিষয় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের চরম ব্যত্যয় লক্ষ করছে। অতীতেও যেমন ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শেয়ারহোল্ডারদের বাধ্য করে শেয়ার কেড়ে নিয়েছে, তেমনি ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে ব্যাংক থেকে বিভিন্ন উপায়ে লোনের নাম দিয়ে অর্থ লোপাট করেছে এবং নিজস্ব লোকবল নিয়োগ দিয়েছে। যা দেখার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছিল। কিন্তু মনে হয়েছে সব কিছুই যেন এস আলম ম্যানেজ করে চলেছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হওয়ার পরও ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ নিয়ে একই আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা গ্রাহকদের ক্ষোভের কারণও বটে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকের প্রবাসী গ্রাহকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের আচরণে অবাক বিস্ময় প্রকাশ করেছে। অনতিবিলম্বে আস্থা ফিরিয়ে আনতে উপস্থাপিত ৭ দফা দাবি মূল্যায়ন করতে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি আহ্বান জানান।



