শরিফুজ্জামান লোহাগড়া (নড়াইল)
বসন্তের আগমনে বাংলার প্রকৃতি নতুন রূপে সেজেছে। আবহাওয়ার এই মনোরম সন্ধিক্ষণে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার গ্রামগঞ্জে নজর কাড়ছে শ্বেতশুভ্র সজনে ফুলের সমারোহ। সজনের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা সাদা ও হালকা হলুদাভ ফুল এক দিকে যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলছে, অন্য দিকে এর পুষ্টিগুণের কারণে মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, লোহাগড়া শহরের লক্ষ্মীপাশা, কচুবাড়ীয়া, রামপুর, মল্লিকপুর, ইতনা, জয়পুর, শালনগর, নোয়াগ্রাম, নলদী, লাহুড়িয়া, দিঘলিয়া, কোটাকোল ও কাশীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ধারে কিংবা বসতবাড়ির আঙিনায় সজনে গাছে অসংখ্য ফুল ফুটে আছে। বসন্তের হালকা রোদের সাথে দোল খাওয়া এসব ফুল গ্রামীণ পরিবেশে যোগ করেছে বাড়তি নান্দনিকতা।
স্থানীয়রা জানান, এ বছর সজনে গাছে আগের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি ফুল এসেছে। এতে করে সামনে সজনের ডাঁটার বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। যদিও স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সজনে চাষ সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দিতে পারেনি।
লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের কৃষক কাজী বলেন, সজনে গাছ খুব সহজেই জন্মায়। ফুল দেখলেই বোঝা যায় এবার সজনের ভালো ফলন হবে। বাজারে এর দামও বেশ ভালো। তিনি আরো বলেন, শুধু অর্থনৈতিক বিবেচনায়ই নয়, প্রতিটি গৃহস্থের বাড়িতেও সজনের বেশ ভালো কদর আছে। লক্ষ্মীপাশা গ্রামের গৃহিণী নাসরিন জামান বলেন, সজনে ফুল দিয়ে ভর্তা বা বড়ার স্বাদ একেবারেই আলাদা। সুযোগ পেলেই ফুল কুড়িয়ে আমরা ভর্তা বানিয়ে খাই।
লোহাগড়ার আমাদা কলেজের প্রভাষক ও সিনিয়র সাংবাদিক রূপক মুখার্জি জানান, সজনে একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ উদ্ভিদ। এর ফুল, পাতা ও ডাঁটা- সবই খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ফুলে থাকা ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রোটিন মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী।



