বিচ্ছিন্নতাবাদের উসকানিদাতা চৈতালীকে গ্রেফতারের দাবি হেফাজতের

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি’ স্থাপনের নামে স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের অপচেষ্টা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী কর্তৃক হিন্দুদের জন্য ‘আলাদা প্রদেশ’ গঠনের প্রকাশ্য দেশদ্রোহী ও উসকানিমূলক হুঁশিয়ারির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান। একই সাথে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, অখণ্ড ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ দেশের সুদীর্ঘকালের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের জাতীয় ঐক্যকে নসাৎ করতে একটি বিশেষ মহল গভীর ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর মুখে স্বাধীন বাংলাদেশের ভূখণ্ড খণ্ডবিখণ্ড করে ‘আলাদা প্রদেশ’ দাবি করা স্পষ্টত রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং দেশের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে এক প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা। আমরা এই চরম উসকানিমূলক, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী বক্তব্যের তীব্র ধিক্কার জানাই।’’

হেফাজত নেতৃদ্বয় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিগত জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে এ দেশের আলেমসমাজ ও সর্বস্তরের তৌহিদি জনতা সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয় ও বাড়িঘর রাত জেগে পাহারা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে অনন্য ও অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করেছে, তা সর্বজনবিদিত। এমন একটি শান্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ জাতীয় পরিস্থিতিতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর একটি স্পর্শকাতর জনপদে স্থানীয় জনগণের সেন্টিমেন্ট ও শান্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিশাল পরিসরে মূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে। এর ওপর ভর করে দেশকে বিভক্ত করার মতো যে দুঃসাহসিক হুমকি দেয়া হয়েছে, তা কোনো স্বাধীন দেশের নাগরিক বরদাশত করতে পারে না।’