রাঙ্গুনিয়ায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, বিক্ষোভ

চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৮ দিন পর লাশ উদ্ধার

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় বিক্ষোভ-অবরোধ হয়েছে। অন্য দিকে চুয়াঙ্গায় অপহরণের আট দিন পর এক ভ্যানচালকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক মাসুদ চৌধুরীকে (৪৮) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার বিকেলে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন। পুরো রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত মাকসুদুলের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী এলাকায়। তিনি বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক স্বপন চৌধুরীর ছোট ভাই ও মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। রাউজান থানার পুলিশ তার লাশ থানা হেফাজতে নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেলা দেড়টার দিকে মাসুদুল হক পাহাড়তলি বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সিএনজি-চালিত অটোরিকশায় করে পাঁচ থেকে সাতজন অস্ত্রধারী এলাকাটিতে আসে। এরপর মাসুদুলকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে অটোরিকশা করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। মাকসুদুলের মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থানে গুলি লেগেছে। ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

এ দিকে যুবদল নেতা মাকসুদুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীরা কাপ্তাই সড়কের লিচুবাগান, ইছাখালী, পোমরা, গোডাউন, চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের রানীরহাটসহ একাধিক স্থানে অবরোধ করে রাখেন। পাশাপাশি পাহাড়তলিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ বেলায়াত হোসেন বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে ইউনিয়নে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় গণপিটুনিতে কালু বাহিনীর প্রধান বস্তি কালু নিহত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। আহত ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। গণপিটুনিতে নিহত ইব্রাহিম হোসেন কালু একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে গোলাম মোস্তফার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে গণপিটুনিতে ইব্রাহিম হোসেন কালু নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, অপহরণের আট দিন পর চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের অর্জুন খাল থেকে এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে লাশটি শনাক্ত হওয়ার পর দুপুরে উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবক রাফিন (২২) জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের চিলাভালকি গ্রামের সৌদি প্রবাসী আক্তার হোসেনের ছেলে।

নিহত রাফিনের দাদী আমেনা খাতুন জানান, গত ৫ জুন সকালে রাফিন নিজের ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে তারা তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে ফোনটি বন্ধ পায়। এরপর রাত ৮টার দিকে একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে কল আসে। কলদাতা দাবি করেন, রাফিনকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। এ ঘটনার পর আলমডাঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়। স্বজনদের দাবি, অপহরণকারীদের সাথে যোগাযোগের সময় তারা রাফিনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা তার সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়নি; বরং ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাকে মারধরের শব্দ শোনানো হয়েছে। দাদী আরো জানান, রাফিন দীর্ঘদিন ধরে তার সাথে বসবাস করছিল। সে ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত।