মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ডোমখালী-সাহেরখালী বঙ্গোপসাগর মোহনায় চলতি বছর ইলিশের আহরণ বেড়েছে। উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইলিশ আহরণ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে। তবে প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্রে শিল্পায়নের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে মিরসরাইয়ে ইলিশ আহরণ হয়েছিল ১৪৭ দশমিক ৪ টন। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১১৬ টনে। ২০২৪ সালে আরো কমে ৩৬ দশমিক ৪৯ টন এবং ২০২৫ সালে আহরণ হয় ২৫ দশমিক ৮০৫ টন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আহরণ হয়েছে ৫২ দশমিক ৫২ টন।
দেশের চারটি ইলিশ প্রজননকেন্দ্রের একটি ডোমখালী-সাহেরখালী বঙ্গোপসাগর মোহনায় অবস্থিত। ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে সরকার প্রতি বছর মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, জাটকা সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। নিষেধাজ্ঞার সময় নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলোকে খাদ্যসহায়তাও দেয়া হয়।
স্থানীয় জেলে যদু জলদাশ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার কিছুটা বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। তবে গভীর সমুদ্র ছাড়া এখন ইলিশ তেমন পাওয়া যায় না। এতে মাছ বিক্রির আয় দিয়ে খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বগাচতর এলাকার জেলে সম্ভু জলদাশ বলেন, গত বছর ইলিশের অবস্থা দেখে তারা হতাশ ছিলেন। এবার এখন পর্যন্ত তুলনামূলক ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। মিরসরাইয়ের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ইলিশ আহরণ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
উপজেলার ২৯টি জেলেপাড়ায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন দুই হাজার ৫৫৭ জন। স্থানীয়দের দাবি, ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখা গেলে উৎপাদন আরো বাড়ানো সম্ভব।



