রাঙ্গাবালীতে বনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, মরছে গবাদিপশু

Printed Edition
চরের একটি বনে বিষাক্ত পানি খেয়ে মারা যাওয়া গরু : নয়া দিগন্ত
চরের একটি বনে বিষাক্ত পানি খেয়ে মারা যাওয়া গরু : নয়া দিগন্ত

রফিকুল ইসলাম রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীতে সবুজ বনায়ন ধ্বংস করে অবৈধভাবে খাল ও চর দখলের মহোৎসব চলছে। বনের ছোট ছোট খালে রিং বাঁধ তৈরি এবং বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে এক দিকে যেমন বিরল প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব ও মাছের পোনা ধ্বংস হচ্ছে, অন্য দিকে সেই বিষাক্ত পানি পান করে মারা যাচ্ছে চরাঞ্চলের গবাদিপশু।

বনায়নের ভেতরে সরকারি গাছ কেটে এই অসাধু চক্র বাঁধ নির্মাণ করলেও রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় বন বিভাগ। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী বন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন রাঙ্গাবালীর নাগরিক সমাজ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চার দিকে নদীবেষ্টিত রাঙ্গাবালীর প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই কৃষক ও জেলে। সম্প্রতি সরকারি বনায়নের ভেতরের জোয়ার-ভাটার খালগুলো ইজারা দেয়ার নামে সাধারণ জেলেদের প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে প্রভাবশালীরা। বন বিভাগের মৌখিক অনুমতির দোহাই দিয়ে সিন্ডিকেট চক্রটি বন ও বনের ভেতরের প্রাকৃতিক খালগুলো দখল করে নিয়েছে। প্রভাবশালী ও কিছু বন কর্মকর্তার মধ্যে মোটা অঙ্কের ঘুষ বিনিময়ের মাধ্যমে এ দখলদারিত্ব চলছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

বনের চর মাদারবুনিয়া এলাকায় ১৯টি মহিষ লালন-পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দা মনজুর রহমান মৃধা। তিনি অভিযোগ করে জানান, খালে বাঁধ দিয়ে বিষ প্রয়োগের ফলে তৈরি হওয়া কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় আটকে এবং বিষাক্ত পানি পান করে গত ২১ জুলাই রাতে তার প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি মহিষ মারা যায়। পাশাপাশি এখনো নিখোঁজ রয়েছে তার আরো তিনটি ছোট মহিষ। আরেক খামারি জসিম মিয়ার মতে, বিষ প্রয়োগের কারণে চরাঞ্চলের গর্ভবতী মহিষ ও গরুর গর্ভপাত ঘটছে এবং একের পর এক বাছুর মারা যাচ্ছে। অভিযোগ করেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো সুরাহা মেলেনি।

চর সোনারচরের জেলেরা জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে প্রভাবশালীরা খাল ইজারা নেয়। এতে প্রকৃত জেলেরা জীবিকাচ্যুত হচ্ছে। তাছাড়া বিষ প্রয়োগের পর প্রতিদিন মণকে মণ ছোট মরা মাছ নদীতে ফেলে দেয়া হয়, যা খাওয়ার পুরোপুরি অনুপযোগী। বন কর্মকর্তাদের ঘুষ হিসেবে প্রতি মহিষ বাবদ ৫০০ টাকা করেও দিতে হয় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের তীর আসা বাঁধ নির্মাণকারী ওহাব মাদবার জানান, বিএনপি নেতা দেলোয়ার কাজীসহ অন্য নেতাদের কাছ থেকে তারা বাগান কিনেছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক ব্যক্তি জানান, রাঙ্গাবালী সদর বিট কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মৌখিকভাবে ৫০ হাজার টাকায় তারা বাগান ইজারা নিয়েছেন।

গাছ কেটে বাঁধ ও পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়টি জানতে চাইলে রাঙ্গাবালী সদর বিট কর্মকর্তা ফজলুর রহমান ইজারা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তিনি মহিষ মরার কথা শুনেছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব অবৈধ বাঁধ কেটে দেয়া হবে এবং গাছ কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সোনারচর বিট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি পারিবারিক কারণ দেখিয়ে বক্তব্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন।