আনাদোলু
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলা নির্যাতন, আটক ও গুমের পর সিরিয়ায় লাখ লাখ মানুষের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি বর্তমানে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসঙ্ঘের সিরিয়ান আরব রিপাবলিকের নিখোঁজ ব্যক্তি বিষয়ক স্বাধীন সংস্থার (আইআইএমপি) প্রধান কার্লা কিনতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি দেশটিতে নিখোঁজ নাগরিকদের সন্ধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কার্লা কিনতানা সিরিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সিরিয়া পুনর্গঠনের পথে এগোলেও লাখ লাখ নিখোঁজ মানুষের সন্ধান করা দেশটির জন্য সবচেয়ে গভীর চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।’ নিখোঁজ মানুষের সংখ্যার দিক থেকে সিরিয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কার্লা কিনতানা জানান, সিরিয়ার প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন বা পরিচিত কেউ না কেউ নিখোঁজ রয়েছেন। এ সমস্যার সমাধান শুধু মানবিক ও নৈতিক দায়িত্বই নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
গত এক বছরে আইআইএমপি তাদের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিখোঁজদের পরিবারকে তথ্য দেয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। কার্লা কিনতানা বলেন, ‘আমরা ৭৫ হাজারের বেশি নথি পর্যালোচনা করেছি।’ এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৯ গুণ বেশি উল্লেখ করে তিনি জানান, এর মাধ্যমে তারা অনুসন্ধান প্রক্রিয়া জোরদার করেছেন এবং কিছু পরিবারকে উত্তর দিতে সক্ষম হয়েছেন।
নিখোঁজদের সন্ধানে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও আদান-প্রদানকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে কিনতানা এটিকে একটি সম্মিলিত প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কেউ একা এই কাজ করতে পারবে না, আমাদের সবার সহযোগিতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন।’ কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই বলে তিনি জানান এবং লাখ লাখ পরিবার এখনো সুনির্দিষ্ট উত্তরের অপেক্ষায় আছে বলে উল্লেখ করেন।
নিখোঁজদের কেউ বেঁচে থাকতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কিনতানা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘কারা বেঁচে আছেন আর কারা নেই, সে বিষয়ে আমাদের খুব সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।’ তারা প্রচুর তথ্য বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত ৬০০টির বেশি সুনির্দিষ্ট ঘটনার নাম পেয়েছেন বলে তিনি জানান। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিশ্চিতভাবে বেঁচে আছেন এবং ইতোমধ্যে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাথ শাসনামলের পতনের পর সিরিয়া জুড়ে অনুসন্ধান ও তল্লাশি অভিযানে একাধিক গণকবর আবিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। এসব আবিষ্কার সাবেক শাসনামলে সংঘটিত বর্বরোচিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংসতার ভয়াবহ মাত্রা নতুন করে সামনে এনেছে।



