চুয়াডাঙ্গায় সওজের ২৬টি বড় গাছ বিক্রি, এলাকায় ক্ষোভ

Printed Edition

মনিরুজ্জামান সুমন দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)

দেশজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা ও পরিবেশ সুরক্ষায় যখন সরকারি উদ্যোগে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ চলছে। অন্য দিকে চুয়াডাঙ্গায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ২৬টি পরিণত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ তাপমাত্রার জেলা হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গায় সরকারি নিয়মে চার দফা নিলামে গাছগুলো বিক্রির এই সিদ্ধান্ত পরিবেশগতভাবে কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহল।

সরকারি নথি অনুযায়ী, সওজের বাসভবন এলাকা ও সড়কের পাশের এসব গাছ মোট চার লাখ ৭৫ হাজার টাকায় পৃথক চারটি কার্যাদেশের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ইতোমধ্যে গাছগুলো কেটে অপসারণও সম্পন্ন হয়েছে। নথিপত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুজাত কাজী মেহগনিসহ অন্যান্য গাছকে অতিরিক্ত ছায়া, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ সৃষ্টি এবং ভেঙে পড়ার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে স্পট অকশনের প্রস্তাব পাঠান। পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজশাহীর নির্বাহী বৃক্ষপালনবিদ মীর মুকুট মো: আবু সাঈদ গাছগুলো অপসারণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। ২০২৬ সালের ১৪ ও ২২ জুলাই চার দফায় বগুড়ার ‘মেসার্স জোয়ারদার স মিল’ ও রাজশাহীর ‘মেসার্স বকুল এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে গাছগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়।

তবে পরিবেশ সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন; একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ পরিবেশ রক্ষা, অক্সিজেন সরবরাহ ও কার্বন শোষণে যে ভূমিকা রাখে, নতুন রোপণ করা চারা গাছ কি তার অভাব সহজে পূরণ করতে পারবে? নীতিমালার দোহাই দিয়ে বৈধ হলেও চুয়াডাঙ্গার মতো উষ্ণ অঞ্চলে এমন সিদ্ধান্তের আগে পরিবেশগত প্রভাব গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত ছিল।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কর্কটক্রান্তি রেখার কাছে হওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় এমনিতেই জলাশয় কম ও তাপমাত্রা বেশি থাকে। পরিবেশবিদদের মতে, দুই-একটি গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারলেও বেশির ভাগই ভালো ছিল, যেগুলো ছাঁটাই করলেই চলত। সুস্থ ও পরিণত গাছ কেটে ফেলা ভবিষ্যতে এখানকার পরিবেশকে আরো ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ফেলবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, সড়ক ও বাসভবন এলাকার দুর্ঘটনা এড়াতে এবং সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শনের পর এসব গাছ কাটা হয়েছে। প্রতিটি কাটা গাছের স্থানে পাঁচটি নতুন চারা রোপণ করা হবে।