দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে মেক্সিকোর দারুণ সূচনা

Printed Edition
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গোলের পর শূন্যে লাফিয়ে উদযাপন করছেন রাউল হিমেনেজ। মেক্সিকোর হয়ে ৪৬তম গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জারেদ বোর্গেত্তির পাশে নাম লেখালেন  : ইন্টারনেট
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গোলের পর শূন্যে লাফিয়ে উদযাপন করছেন রাউল হিমেনেজ। মেক্সিকোর হয়ে ৪৬তম গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জারেদ বোর্গেত্তির পাশে নাম লেখালেন : ইন্টারনেট

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাস গড়ার মতো উদ্বোধনী দিনে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আসরের প্রথম ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেয়। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা, গোল, লাল কার্ড এবং নাটকীয়তার কোনো কমতি ছিল না।

ম্যাচ শুরুর মাত্র ৯ মিনিটেই গোল পেয়ে যায় মেক্সিকো। আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড জুলিয়ান কুইনোনেস দুর্দান্ত এক নিচু শটে দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসকে পরাস্ত করেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত শুরুর দিকের গোলগুলোর একটি হিসেবে এটি ম্যাচে স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

প্রথমার্ধে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকা কিছু আক্রমণ গড়ে তোলে। তবে মেক্সিকোর সংগঠিত রক্ষণভাগ তাদের বেশি সুযোগ দেয়নি। অন্যদিকে অভিজ্ঞ রাউল হিমেনেজ আক্রমণে বারবার চাপ সৃষ্টি করেন, যদিও প্রথমার্ধে আর গোল আসেনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায়। প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেহেলো সিথোলেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি, কারণ তিনি গোল করার সম্ভাবনাময় আক্রমণ থামিয়ে দেন। এরপর কিছু সময় পর থেম্বা জোয়ানে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে মুখে আঘাত করার কারণে আরেকটি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। দুই খেলোয়াড় কমে যাওয়ায় ম্যাচে বড় ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

অন্য দিকে মেক্সিকোর জন্যও ম্যাচটি সহজ ছিল না। শেষদিকে তাদের ডিফেন্ডার সিজার মন্তেসকেও লাল কার্ড দেখানো হয়, ফলে ম্যাচ শেষ হয় দশ বনাম নয় খেলোয়াড় নিয়ে। তিনটি লাল কার্ডের ঘটনা এই ম্যাচকে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে নাটকীয় ম্যাচগুলোর একটিতে পরিণত করে।

ম্যাচের দ্বিতীয় গোল আসে ৬৫ মিনিটের দিকে। অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান। এটি ছিল তার বিশ্বকাপে প্রথম গোল এবং জাতীয় দলের হয়ে ৪৬তম গোল, যা তাকে মেক্সিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জারেদ বোর্গেত্তির সমান করে তোলে।

মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগুইরে ম্যাচ শেষে বলেন, উদ্বোধনী ম্যাচের চাপ খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলেছিল। তিনি জানান, ‘শুরুতে সবারই নার্ভাসনেস ছিল; কিন্তু পরে দল নিজেদের সামলে নেয় এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে সক্ষম হয়।’

প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের সামনে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অধিকাংশ দর্শকই ছিলেন মেক্সিকোর সমর্থক। স্টেডিয়ামটি ইতিহাস গড়ে প্রথম ভেনু হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের রেকর্ড গড়েছে।

ম্যাচ শুরুর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল চোখধাঁধানো। কলম্বিয়ান তারকা শাকিরা ও নাইজেরিয়ান সঙ্গীতশিল্পী বার্না বয় ‘উধর উধর’ পরিবেশন করেন, যা টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল গান। পাশাপাশি ইতালিয়ান টেনর আন্দ্রেয়া বচেলি ও অন্যান্য শিল্পীরা অনুষ্ঠানকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেন সালমা হায়েকসহ বিভিন্ন তারকা।

তবে উৎসবের মধ্যেও মাঠের বাইরে উত্তেজনা দেখা যায়। স্টেডিয়ামের বাইরে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনকারী ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ করেন। পুলিশের সাথে কিছু সময় সংঘর্ষও হয় বলে জানা যায়। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এ’-তে তিন পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকো। দক্ষিণ আফ্রিকা এখন চাপের মুখে পড়েছে, কারণ পরবর্তী ম্যাচে তাদের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ চেকিয়া। অন্য দিকে মেক্সিকো পরবর্তী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়ার, যা গ্রুপ পর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচেই জয়, নাটকীয়তা ও রেকর্ড সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শুরুটা রাঙিয়ে দিল স্বাগতিক মেক্সিকো।