ক্রীড়া প্রতিবেদক
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাস নিয়েই দেশে ফিরেছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দল। গতকাল সকালে ট্রফি হাতে মাদ্রিদে পা রাখেন রদ্রি, লামিনে ইয়ামালরা। মাদ্রিদে পৌঁছানোর পর বিমান থেকে নেমেই বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে স্মারক ছবি তোলেন ফুটবলার ও কোচিং স্টাফের সদস্যরা। বিমান থেকে নামার সময় দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি ফুটে উঠলেও প্রত্যেকের মুখে ছিল শিরোপা জয়ের তৃপ্তির হাসি। ট্র্যাকস্যুটের পিঠে লেখা ছিল ‘স্পেন ২৬’, যা ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক হিসেবে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।
লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, ফেরান তোরেস, পাও কুবারসিসহ পুরো দল নির্ধারিত বাসে করে লাস রোসাসে রওনা হয়। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও কিছুটা বিশ্রামের পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক বিজয় উদযাপন। বিমানবন্দর থেকেই শুরু হয় উদযাপন, এরপর রাজধানীজুড়ে তাদের জন্য ছিল একাধিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন তাদের জন্য রাজকীয় সংবর্ধনার আয়োজন করেছে। সূচি অনুযায়ী, দলটি প্রথমে রাজপ্রাসাদে গিয়ে রাজা ষষ্ঠ ফেলিপের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এরপর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের আমন্ত্রণে মনক্লোয়া প্রাসাদে গেছেন। দিনের শেষ পর্বে মাদ্রিদের ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কয়ারে সমর্থকদের সাথে বিজয় উৎসবে অংশ নিয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
প্রথা অনুযায়ী, অধিনায়ক রদ্রি, প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুসান একসাথে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে নিয়ে উপস্থিত জনতার সামনে আসেন। ট্রফি উঁচিয়ে ধরে তারা যেন পুরো স্পেনবাসীর সাথে ভাগ করে নেন বিশ্বজয়ের আনন্দ।
তবে আনন্দের এই আবহে নেমে এসেছে বেদনার ছায়াও। বিশ্বকাপ জয়ের উদযাপন চলাকালে স্পেনের পশ্চিমাঞ্চলে একটি ফোয়ারার কাঠামো ধসে পড়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। যে রাতে পুরো দেশ আনন্দে মেতেছিল, সেই রাতই একটি পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে গভীর শোকের। বিশ্বজয়ের উৎসবের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে!



