আতিকুর রহমান ঝালকাঠি
রমজান মাস এলেই ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ মুড়িকে ঘিরে জমে ওঠে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার গ্রামাঞ্চল। বিশেষ করে নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামে এখন দিনরাত চলছে মুড়ি ভাজার ব্যস্ততা। এ কাজে যুক্ত রয়েছে তিন শতাধিক পরিবার। নারী-পুরুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজপড়–য়া সন্তানরাও অবসরে সহযোগিতা করছে।
স্থানীয়ভাবে ‘মুড়িপল্লী’ নামে পরিচিত তিমিরকাঠি, জুড়কাঠি, ভরতকাঠি, দপদপিয়া ও রাজাখালিসহ কয়েকটি গ্রামে যুগ যুগ ধরে বাণিজ্যিকভাবে মুড়ি উৎপাদন হয়ে আসছে। এখানকার হাতে ভাজা মোটা মুড়ি সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় সারা দেশে এর চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন শতাধিক মণ মুড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। বছরে প্রায় কোটি টাকার মুড়ি উৎপাদন হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
নাখোচি জাতের ধান প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় মুড়ির চাল। কোনো রাসায়নিক ব্যবহার না করায় এ মুড়ির সুনাম রয়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মুড়ি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, পাইকারি দাম ৯০ টাকা। তবে উৎপাদনকারীরা জানান, জ্বালানি কাঠ ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদে ৫০ কেজি চালের মুড়ি ভেজে তারা মজুরি পান মাত্র ৪০০ টাকা। নিজস্ব পুঁজি না থাকায় অনেকেই আড়তদারদের কাছ থেকে দাদন নিতে বাধ্য হন।
রমজানের বাড়তি চাহিদা মেটাতে ভোর ৪টা থেকে শুরু হয় মুড়ি ভাজার কাজ, যা চলে পরদিন দুপুর পর্যন্ত। রোজা রেখে চুলার তীব্র তাপে কাজ করতে গিয়ে শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয় শ্রমিকদের। ভরতকাঠি গ্রামের আয়েশা বেগম বলেন, এই কাজ নারীদের জন্য আলাদা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করলেও বয়স বাড়লে কষ্ট বাড়ে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, মেশিনে ভাজা চিকন মুড়ির কারণে হাতে ভাজা মুড়ির বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে শ্রমিকরা কাক্সিক্ষত দাম পান না।
দপদপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধা বলেন, মৌসুমভিত্তিক এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রয়োজন। বিসিক ঝালকাঠির উপ-ব্যবস্থাপক মো: আল আমিন জানান, মুড়ি শিল্পে জড়িতরা সমিতি গঠন করে ঋণের আবেদন করলে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কুটির শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি ও সহজ ঋণের সুবিধা পেলে এ ঐতিহ্যবাহী মুড়ি শিল্প আরো বিকশিত হবে।



