অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
পরীক্ষিত উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন প্রত্যাশা করেছেন আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের মতো এবারো একটি কঠিন সময়ে তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন। অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংককে আবার সমৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নয়া দিগন্তের কাছে।
গত ১৬ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন অভিযোগে ভেঙে দেয়া ১২টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে এটিই প্রথম, যেখানে উদ্যোক্তাদের কাছে আবার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়া হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি এবং পরীক্ষিত উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
দুই বছর আগে এস আলম গ্রুপের সম্পৃক্ততার অভিযোগের পর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়। তখন ধারণা করা হয়েছিল, ব্যাংকটি বড় ধরনের আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে। তবে এক দল কর্মঠ কর্মকর্তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ব্যাংক ডাকাত এস আলমের আল-আরাফাহ ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে নেয়ার বারবার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হয়। আর এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক, আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি এবং অন্যান্য তদারকি সংস্থার অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্যাংকটির সম্পদের গুণগত মানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জালিয়াতি বা অনৈতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রমাণও মেলেনি। এমনকি প্রতিকূল সময়েও ব্যাংকটি তারল্য সঙ্কটে পড়েনি এবং গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধে সক্ষম ছিল। যদিও স্বতন্ত্র পরিচালকরা অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য তৎকালীন সিএফও, এমডিসহ বেশ কিছু নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাকে একসাথে বাদ দিয়েছিল একটি মীমাংসিত ইস্যুকে ঘিরে।
আল-আরাফার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল। ওই সময় ব্যাংকের মুনাফা, আমানত, বিনিয়োগ, আমদানি-রফতানি ব্যবসা এবং শাখা নেটওয়ার্কে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। ২০০৭ সালে যেখানে মুনাফা প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক ২২ শতাংশ, সেখানে ২০০৯ সালে তা ইতিবাচক ১৩ শতাংশ এবং ২০১১ সালে ৩৪ শতাংশে উন্নীত হয়। একই সময়ে আমানত প্রায় সাত গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়।
ব্যাংকের একাধিক সাবেক পরিচালক জানান, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন মত ও রাজনৈতিক পটভূমির উদ্যোক্তারা ব্যাংকের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে কখনো পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের সঙ্ঘাত সৃষ্টি হয়নি। যদিও একসময় এস আলম গ্রুপের প্রভাব বাড়ে, তবুও শক্তিশালী উদ্যোক্তা প্রতিনিধিত্বের কারণে ব্যাংকটি কোনো একক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়নি। নতুন পর্ষদে এস আলম-সম্পৃক্ত পরিচালক আব্দুস সামাদ লাবুকে রাখা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সবদিক ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের পরিক্ষীত উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা হয়েছে। যারা দেশের প্রথম সারির এই ব্যাংকটিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, অক্লান্ত পরিশ্রম করে সফলতা এনে দিয়েছেন এবং এখনো দুর্দিনে এগিয়ে নিতে পারার সামর্থ্য অছে এমন কয়েকজনকে রাখা হয়েছে নতুন পরিচালনা পর্ষদে। অচিরেই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে আরো কয়েকজন যোগ্য উদ্যোক্তা পরিচালককে নিয়োগ দেয়া হতে পারে।



