ইরাক দলে পাকিস্তানি জিদান

Printed Edition

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষের বসবাস দক্ষিণ এশিয়ায়। প্রায় ২১০ কোটিরও বেশি। এই বিশাল অঞ্চলে ফুটবল যতটা জনপ্রিয়, খেলার মাঠে ততটা এগিয়ে নেই। যে কারণে এশিয়ান অঞ্চলের বাছাই পর্বে বিভিন্ন গ্রুপে ভারতের মতো দেশও থাকে তলানিতে। অথচ তারা ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সার্ক অঞ্চলে সবচেয়ে এগিয়ে থাকে। সে তুলনায় পাকিস্তান অনেক পিছিয়ে। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে তাদের অবস্থান ১৯৮তম। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে স্থান পায় মোট ২১১টি দেশ। সেখানে ২৫ কোটির বেশি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তানও ফুটবলে পিছিয়ে। অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলা দুঃস্বপ্ন। অথচ সেই পাকিস্তানেরই একজন ফুটবলার এবার খেলছেন বিশ্বকাপে। প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের নাম উচ্চারিত হলো এক তরুণ ফুটবলারের কারণে।

নাম জিদান ইকবাল। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে নরওয়ের বিপে ম্যাচে ৫৯ মিনিটে মাঠে নামেন ইরাকের মিডফিল্ডার জিদান ইকবাল। ম্যাচে ইরাক ৪-১ গোলে পরাজিত হলেও পাকিস্তানের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কারণ জিদানই প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার যিনি বিশ্বকাপে খেললেন। গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ে সহজ জয় তুলে নেয়। ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ইরাকের শুরুটা সুখকর না হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন জিদান ইকবাল।

জিদানের জন্ম ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে। তার বাবা আম্মার ইকবাল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সাহিওয়াল শহরের বাসিন্দা। অন্য দিকে তার মা আয়াত ইরাকের দণিাঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। ফলে জন্মসূত্রে জিদানের সামনে ছিল তিনটি জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগÑ ইংল্যান্ড, পাকিস্তান অথবা ইরাক। ম্যানচেস্টারে বেড়ে ওঠা এই তরুণ শেষ পর্যন্ত বেছে নেন ইরাককে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি জনপ্রিয় ইরাকি পেজ প্রথম জিদানের পারিবারিক শিকড় সম্পর্কে জানতে পারে। পরে সেই তথ্য পৌঁছে যায় ইরাক ফুটবল ফেডারেশনের কাছে। এরপর ফেডারেশনের কর্মকর্তারা জিদান এবং তার পরিবারের সাথে একাধিক ভিডিও কলে যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর তাকে ইরাকের জার্সিতে খেলার প্রস্তাব দেয়া হয়। এক সাাৎকারে জিদান বলেছিলেন, ‘ইরাকের সমর্থকরা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ইরাকিদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। ফেডারেশনও আমাকে দলে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। কেউ যখন আপনাকে এতটা ভালোবাসা দেখায়, তখন সেটার প্রতিদান দেয়াটাই স্বাভাবিক।’

বিশ্বকাপে জিদানের অংশগ্রহণ পাকিস্তানের ফুটবলের জন্যও একটি বড় অনুপ্রেরণা। যদিও তিনি ইরাকের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তবুও তার পাকিস্তানি শিকড় দেশটির তরুণ ফুটবলারদের জন্য নতুন স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছে। জিদান ইকবালের বিশ^কাপে উপস্থিতি পাকিস্তানিদের উজ্জিবিত করতে পারে।