নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠেছে শতাধিক ইটভাটা। এসব ইটভাটা থেকে প্রতিদিন বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে কালো ধোঁয়া ও ইটের গুড়া। কিন্তু নিয়মিত অভিযান চালিয়েও এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কার্যকর ফল মিলছে না। এতে আশপাশের এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যাসহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি, গাছপালা ও নদীর জীববৈচিত্র্য।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জে মোট ইটভাটা আছে ২৪৪টি। এর মধ্যে বৈধ ৯৪টি। বাকি ১৫০টিই অবৈধ। এসব অবৈধ ইটভাটা। অনেক সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে গুড়িয়ে দেয়া হলেও কয়েকদিন পর আবার সেগুলো সচল হয়ে যায়।
এতে করে বক্তাবলী ও আলীরটেক এলাকাসহ ইটাভাটার আশপাশ এলাকার গাছপালা মরে যাওয়া, জমিতে ফসল না হওয়াসহ নদীর মাছও হারিয়ে যাচ্ছে। এক দিকে এসব ইটাভাটা যেমন যোগান দিচ্ছে আধুনিক নগরায়নের নির্মাণ সামগ্রী, অন্য দিকে বাতাসে ছড়াচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া। ফলে উন্নয়নের চাকা ঘুরলেও তার ভার বইছে পরিবেশ প্রকৃতি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সাবেরা সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, ইটভাটার কারণে পরিবেশের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। আশপাশের মানুষজন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্ষেতে ফসল হয় না। আমরা এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দফতরের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কার্যকর ভূমিকা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির মহাসচিব মোমিন উল্লাহ খানের ভাষ্য, ইটভাটার ব্যবসা বর্তমানে এমনিতেই ভালো যাচ্ছে না। সরকারের সাথে এই নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই সাথে অবৈধ ইটভাটার ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেয়া হবে। হয় তাদেরকে বৈধ করা হবে, অন্যথায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক এ এইচ এম রাসেদ বলেন, আমরা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছি। সেই সাথে নিয়মিত মামলাও হয়েছে। আমরা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। আমরা সীমিত সক্ষমতা নিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা: আবুল ফজল মুহম্মদ মুশিউর রহমান বলেন, ইটভাটার কারণে পরিবেশ দূষণ হয়। আর পরিবেশ দূষণ হলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেড়ে যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া বড়দের ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ থেকে শুরু করে ফুসফুসের ক্যানসার পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের পরিবেশে দীর্ঘদিন থাকলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, খাবারে অরুচি হয়, জন্ডিস হতে পারে ও মানসিক রোগ বাড়ে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবির বলেন, আমরা খুব শিগগিরই তাদের সাথে মিটিং করবো। পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে তাদেরকে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরিবেশ সম্মত উপায়ে তাদের ইটভাটা পরিচালনা করতে হবে। তাদেরকে এই বার্তা দেয়া হবে। সেই সাথে তাদের অ্যাসোসিয়েশন পরিবেশ অধিদফতরের কাছে কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা তাদেরকে এই বিষয়গুলো অবহিত করব। তারপর আমরা মনিটরিংয়ে যাব; যারা নির্দেশনা মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



