১৪৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত

মুসলিম উম্মাহর দিকপাল ছিলেন আল্লামা ইকবাল

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

আল্লামা ইকবাল বিংশ শতাব্দীতে মুসলিম উম্মাহর দিকপাল দার্শনিক কবি হিসেবে স্বীকৃত। তিনি নিজের ধর্মীয় ও ইসলামী রাজনৈতিক দর্শনের জন্য মুসলিম বিশ্বে বিশেষভাবে সমাদৃত। তিনি ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের একজন মুসলিম কবি, দার্শনিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং ব্যারিস্টার। তার ফার্সি ও উর্দু কবিতাকে আধুনিক যুগের ফার্সি ও উর্দু সাহিত্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মহান কবির ১৪৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আল্লামা ইকবাল সংসদের উদ্যোগে গতকাল বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘ইকবাল ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী শাহ্ আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে এ সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও কবি নাসির হেলাল। এতে তিনি বলেন, রাজনীতি ও ধর্ম শক্তি পরস্পর একে অপরের সংরক্ষক, বিশ্বাসীর জন্য এ দু’টি মেরুকেন্দ্র রেখা স্বরূপ, একটি অপরটির সহায়ক। দেহ যেমন প্রাণ ছাড়া চলতে পারে না, তদ্রƒপ ধর্ম ছাড়া গণতন্ত্র প্রাণহীন বা নিষ্প্রাণ, মূল্যহীন। বিশ্বখ্যাত কবি, দার্শনিক, ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও আইনজ্ঞ, রাজনীতিক আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল ( ১৮৮০- ১৯৩৮) নানা ত্রুটি বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও তন্ত্র-মন্ত্রের মধ্যে গণতন্ত্রকেই মুক্তির বা শান্তির পথ হিসাবে বিবেচনা করতেন। তবে তা অবশ্যই ইসলামের আলোকে আলোকিত গণতন্ত্র।

প্রথম জীবনে অর্থাৎ ইউরোপ যাওয়ার আগে তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তখন তিনি ভৌগোলিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মনে করতেন উপমহাদেশের হিন্দু মুসলমান এক জাতি। তাই তিনি সে সময়ে হিন্দু মুসলমানের ঐক্যও কামনা করতেন। কিন্তু ১৯০৮ সালে ইউরোপ থেকে ফিরে তিনি মুসলিম জাতীয়তাবাদের স্লোগান তোলেন এবং তা বাস্তবায়নে সার্বিকভাবে সচেষ্ট হন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিটায়ার্ড আর্মি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) প্রেসিডেন্ট কর্নেল আব্দুল হক বলেন, কাশ্মির আজ ৮০ বছর ধরে যুদ্ধ করেই যাচ্ছে কিন্তু স্বাধীনতার কোনো নাগাল তারা পায়নি। তবে তাদের পাশে আছে পাকিস্তান ও চীনের সীমান্ত, তারা তাদের সহযোগিতা করছে। কিন্তু আমাদের পাশে কোনোরকম বন্ধু সুলভ কেউ নাই। ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাত থেকে বাঁচার আমাদের কোনো উপায় ছিল না, যদি ৪৭ না হতো। এ সত্য কথাগুলো আমাদের বলতে হবে, বলার সময় এসেছে।

সেমিনারে পাকিস্তানের জিও টিভির সাংবাদিক সীমা সিদ্দিকী, করাচীর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. বেনসন সিদ্দিকাসহ আলোচকরা বলেন, ইকবাল ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইরান ছাড়াও আন্তর্জাতিক সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি হিসেবে প্রশংসিত। যদিও তিনি কবি হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত, কিন্তু তিনি ‘আধুনিক সময়ের মুসলিম দার্শনিক চিন্তাবিদ’ হিসেবেও অত্যন্ত প্রশংসিত। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ আসরার-ই-খুদী ১৯১৫ সালে পারস্য ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল। কবিতার গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে রুমুজ-ই-বেখুদী, পয়গাম-ই-মাশরিক এবং জুবুর-ই-আজাম। ইকবালের দর্শন দিয়ে মুসলিম বিশ্ব যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নাম ছিল ইকবাল হল কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো সে হলের নামটি পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। অথচ আল্লামা ইকবালের মৃত্যু হয়েছে ১৯৩৮ সালে।