বিশেষ সংবাদদাতা
নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, জনগণের বিপুল সমর্থন ও দলের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে আজকের নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের নিরঙ্কুশ জয় অবধারিত।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, মুক্ত, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনে আমাদের বিজয় নিশ্চিত। জনগণের ঢল, বিভিন্ন জরিপ ও তারেক রহমানের সমাবেশে যে উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে, তা বিএনপিকে সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বলেছেন, এবার কোনো নির্বাচনী কারচুপির আশঙ্কা নেই, ফলে বিএনপির ল্যান্ডস্লাইড জয় হবে।
কেন বিএনপি বিজয়ী হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে দলটির নেতারা বলেছেন, দীর্ঘ দিনের দমন-পীড়নের পর এবার প্রথম সত্যিকারের ভোটে জনগণ বিএনপিকে বেছে নেবে। তারেক রহমানের ১৭ বছর পর দেশে ফিরে আসা দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তার র্যালি ও সমাবেশে বিপুল জনসমাগম এবং যুবকদের আকর্ষণ বিএনপির শক্তি বাড়িয়েছে। দলটি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে ৫১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে, যাতে ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতি জনগণের মূল সমস্যা দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের সাথে সরাসরি যুক্ত। নেতারা বলেছেন, একাধিক জরিপ নির্বাচনের বিএনপিকে এগিয়ে রেখেছে। ইমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) জরিপে বিএনপি জোটকে ২০৮ আসনের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। আরো কয়েকটি জরিপে বিএনপির ভোট শেয়ার ৪৪.১% এবং ৬৬% ভোটার মনে করেন বিএনপি সরকার গঠন করবে। কেউ কেউ বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের বড় অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সমর্থকদের অর্ধেকের মতো বিএনপিকে সমর্থন করছেন। এটি বিএনপির ভোটের ভিত্তিকে ব্যাপকভাবে প্রসারিত করেছে।
তবে আজকের এ নির্বাচনে দলটির জন্য বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জরও। দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত ১৮ মাসে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলের অভিযোগ প্রতিপক্ষরা সামনে এনেছে। তরুণ ভোটারদের বিএনপির পক্ষে টানার ক্ষেত্রে প্রচারণায় ঘাটতি ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রচারণা থেকে বিএনপি পিছিয়ে রয়েছে বলে কারো কারো মত। নারীদের মধ্যে প্রচারণার ক্ষেত্রেও দলটির দুর্বলতা দেখা গেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থানের অস্পষ্টতারও অভিযোগ রয়েছে।
সিইসির সাথে বৈঠক শেষে বিএনপি
যে-ই নির্বাচন প্রতিরোধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে আমাদের কিছুই করা লাগবে না। জনগণ তাদের প্রতিরোধ করবে। এমনকি আমরাও যদি এমন কাজ করার চেষ্টা করি জনগণ আমাদেরকেও তাই করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়েছি, সৈয়দপুরে টাকাসহ জামায়াত নেতা আটকের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বলেছেন ৫০ লাখ কেন পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত বহন করতে পারেন। এটা ঠিক নয়।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও এ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা ভোটের মাঠের বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের নজরুল ইসলাম খান বলেন, ফেনী-১ আসনে টাকা দেয়ার ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। ময়মনসিংহ, রামু, বগুড়ার কাহালু, লক্ষ্মীপুর এবং সৈয়দপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত নেতাদের বিভিন্ন বেআইনি কার্যক্রমের জন্য আটক করা হচ্ছে। ভিডিও প্রচার হচ্ছে। এগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আমরা ইসিকে সেসব বিষয়ের নিউজ এবং ভিডিও দিয়ে অভিযোগ করেছি। দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। যাতে আর কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে না পারে। এজন্য শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, এই সময় কেন টাকা আটক করা হচ্ছে, কারণ সময়টা ভিন্ন। কেননা সময়টা যদি স্বাভাবিক থাকতো তাহলে ইসি কেন বলেছে বিকাশে এক হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না। নিশ্চয়ই কারণ আছে। ভোটারদের যাতে টাকা দিতে না পারে। সেজন্যই এত বেশি টাকা বহনে বাধা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে ইসির সিনিয়র সচিব বলেছেন, তিনি কখনো এমন কথা বলেননি। এটা মিস কোড করা হয়েছে। আমরা জানি না কে সত্য। যদি ইসির সিনিয়র সচিব এমন কথা বলে থাকেন তাহলে সেটি খুবই দুঃখজনক। আর যদি কোনো গণমাধ্যম মিস কোড করে প্রচার করে থাকে সেটিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভালো কাজ নয়। বিএনপি নেতা বলেন, আপনারা (সাংবাদিকরা) সত্যের সন্ধানী হিসেবে সত্য উদঘাটন করুন। তিনি বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক একটি কার্ড প্রকাশ করেছেন, সেখানে তিনি লিখেন কাস্টমসের অনুমতি নিয়েই জামায়াত নেতা টাকা বহন করেছেন। এখানেই প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কে তাকে প্রশ্ন করেছে? শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে এই টাকা কিভাবে গেল। কেউতো জানতে চায়নি। তাহলে কেন তিনি নিজে থেকেই এই ব্যাখা দিলেন। সবই রহস্যজনক।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ দুর্বল নয়। যারা এই পরিবর্তন চায়না তারাতো নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতেই পারে। আবার যারা নির্বাচনে আছে; কিন্তু নিশ্চিত পরাজয় জেনে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করতে পারেন। এজন্য নির্বাচন কমিশনের উচিত শক্ত ব্যবস্থা নেয়া।



