ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নজিরবিহীন নেতৃত সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কাছে অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা সামনে আসার পর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তার নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। একসময় অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে থাকা ইনফান্তিনো এখন পদত্যাগের চাপ এবং অনাস্থার মুখে পড়েছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর অংশীদারত্ব বিক্রির একটি পরিকল্পনা নিয়ে। অভিযোগ, এ পরিকল্পনা ফিফার অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই এগিয়ে নেয়া হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা কঠোর অবস্থান নেয়। তারা ফিফার প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানিয়ে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জনের হুমকিও দেয়।
শুধু উয়েফাই নয়, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও ফিফার নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। ইনফান্তিনোর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চলের অবস্থান পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের অনেক সদস্যও তার প্রতি আগের মতো সমর্থন দেখায়নি। একই সাথে ইনফান্তিনোর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী, জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরও তার কাছ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইনফান্তিনোকে অপসারণের কয়েকটি পথ রয়েছে। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা, যেমনটি ২০১৫ সালে সেপ ব্লøাটার করেছিলেন। তবে ইনফান্তিনো এখনই সরে দাঁড়াবেন, এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। তিনি আগামী মার্চে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য পুনর্নির্বাচনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্য দিকে ফিফা কাউন্সিলের ৩৭ সদস্যের মধ্যে অন্তত ১৯ জন জরুরি সভা আহ্বানের দাবি জানালে সভাপতির ওপর পদত্যাগের চাপ সৃষ্টি করা যেতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। আরেকটি পথ হলো ফিফার ২১১ সদস্য দেশের অন্তত ৪৩টি লিখিতভাবে বিশেষ কংগ্রেস আহ্বানের আবেদন জানানো। সে ক্ষেত্রে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করাতে প্রয়োজন হবে অন্তত ১০৬ ভোট।
ইনফান্তিনোর বিকল্প হিসেবে কয়েকটি নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি। কানাডা ফুটবলের সাবেক এই প্রধান ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ ছাড়া এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফার নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে পিএসজি প্রেসিডেন্ট কাতারের নাসের আল-খেলাইফির নাম শোনা গেলেও তিনি এ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ইনফান্তিনোর সামনে এখনো পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সুযোগ রয়েছে। কাতারের পর ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক মরক্কো এবং পরে মিসর তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফলে তিনি যদি ধীরে ধীরে সদস্য দেশগুলোর আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারেন, তাহলে অনাস্থা প্রস্তাবের ঝুঁকি কমে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন লড়াই মূলত ১০৬ ভোটের। এক দিকে উয়েফা ও তাদের মিত্ররা ইনফান্তিনোর বিদায় নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্য দিকে তিনি হারানো সমর্থন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তবে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে যদি বড় আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলো ফিফা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিতে শুরু করে। তাই বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সংস্থার এই নেতৃত্ব সঙ্কট আপাতত দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।



