সানজিদা আকতার আইরিন
বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা। বর্ষাকালে এ দেশের বিলে ঝিলে, পুকুরে বা ডোবায় শাপলার ছড়াছড়ি। লাল সাদা আর গোলাপি রঙের শাপলা মানুষের চিত্তকে করে তোলে আন্দোলিত । এর সরল সাধারণ রূপ খুবই মনোমুগ্ধকর। যে রূপে খুঁজে পাওয়া যায় শতভাগ স্বকীয়তা। এখনো পর্যন্ত শাপলার কোনো প্রজাতি পরিবর্তন করে নতুন প্রজাতি তৈরির ঘটনা জানা যায়নি। তবে নানা রঙের শাপলার মধ্যে আমাদের জাতীয় ফুল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে শুধুই সাদা শাপলা। সাদা শাপলার সাদা রঙকে পরিশুদ্ধতার রূপ হিসেবে আর এর পাপড়িগুলোকে একে অপরকে জড়িয়ে দলবদ্ধ হয়ে বাঁচার অঙ্গীকারের প্রতীক হিসাবে বোঝানো হয়েছে । তাই কোন রঙের শাপলা এবং কেন এই শাপলাকে জাতীয় প্রতীক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এটা বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বচ্ছ ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়।
শাপলা Nymphaeales বর্গের Nymphaeaceae পরিবারের Nymhaea গণের একটি জলজ উদ্ভিদ । এর বৈজ্ঞানিক নাম nymphaeaceae. সাদা শাপলা Nymphaea nouchali প্রজাতির সদস্য। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী সারা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫ প্রজাতির শাপলা রয়েছে । শাপলার পুষ্পদণ্ড মূলের সাথে যুক্ত থাকে। শাপলার চার-পাঁচটি বৃতি থাকে । যা ১১-১৪ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে । এর ১৩-১৫টি পাপড়ি সমৃদ্ধ। সারা বর্ষা ও শরৎজুড়ে বিল ঝিলে রাজত্ব থাকে শাপলার মোহময় সৌন্দর্য । শাপলার পুষ্পদণ্ড মানুষ সবজি হিসেবে গ্রহণ করে। তবে এত প্রত্যুল ও বহুল উৎপাদিত এই শাপলাকে নিয়ে কোনো বাণিজ্যিক পরিকল্পনা অদ্যাবধি সৃষ্টি হয়নি। এ বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ ও সঠিক পরিকল্পনাকে কাজে লাগিয়ে শাপলাকেও পরিণত করা যায় একটি অর্থনৈতিক পণ্যে। তাই বাংলার বুকে ফুটে থাকা অগণিত শাপলার ঠিক ঠাক একটি শিল্প বাজার তৈরির কামনা করা যায় । সাথে সাথে ইচ্ছা রইল বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ জ্ঞাত থাকুক জাতীয় ফুল শাপলার পরিচয় ও পদমর্যদার ইতিহাসের ইতিবৃত্ত।



