কূটনৈতিক প্রতিবেদক
বাংলাদেশের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে ভারত ও চীন। গতকাল পৃথক বার্তায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই অভিনন্দন জানান।
ড. খলিলুর রহমান সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর কোনো নির্বাচিত সরকারের আমলে টেকনোক্র্যাট কোটায় তিনিই প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ড. খলিলুর রহমান পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই অভিনন্দন বার্তা বলেন, আমি বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। আমি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অতীতে হওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছি।
ওয়াং ই আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে চীন-বাংলাদেশ সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের সম্পর্ক এক নতুন এবং অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। বেইজিং বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কাজ চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকার সাথে সম্পর্ককে বেইজিং কতটা গুরুত্ব দেয় তা উল্লেখ করে ওয়াং ই দুই দেশের বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরো গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্য দিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অভিনন্দন বার্তায় দুই দেশের পারস্পরিক অগ্রগতি ও জনকল্যাণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান শক্তিশালী সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে আমি ড. খলিলুর রহমানের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা করি।
দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও বহুমুখী সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতা আগামীতে আরো বৃদ্ধি পাবে।
এ দিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শামা ওবায়েদ। তিনি ফরিদপুর বিভাগ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। শামা ওবায়েদ বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটিতে ছিলেন। এ সময় তিনি বিএনপির পক্ষে বিদেশী কূটনীতিকদের সাথে আলাপ-আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এবারের নির্বাচনে শামা ওবায়েদ ফরিদপুর-২ সংসদীয় আসনে (সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা) বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন।
শামা ওবায়েদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত ২০ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুর রহমান আশির দশকে বিএনপির মহাসচিব এবং জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।



