- রাশিয়ার শ্রমবাজারকে ঘিরে সক্রিয় পাচারকারী চক্র
- ‘সার্ভিস ভিসা’য় কর্মী নিয়ে রুশ বাহিনীর কাছে বিক্রি
রাশিয়ার আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ভয়াবহ গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশীসহ অন্তত ১৫ জন শ্রমিকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জাকির হোসেন নামে এক বাংলাদেশী কর্মী নিহত হয়েছেন এবং মো: আলাল হোসেন রাজু নামে আরেকজন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আরো সাতজন বাংলাদেশীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী মস্কোর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জনই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
রাশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো এক জরুরি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানির অধীন ওই প্রকল্পে বিস্ফোরণে ২৭ আগস্ট সকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বাসিন্দা জাকির হোসেন মারা যান এবং তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য দিকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা রাজু নামের কর্মীটি দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ। কয়েকজনের লাশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অশনাক্ত এসব লাশের মধ্যে রাজুর দেহ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা। মস্কোতে স্থানান্তরিত আহত কর্মীদের সার্বিক চিকিৎসার তত্ত্বাবধান দূতাবাসের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ দিকে বিস্ফোরণের চরম বিপর্যয়ের মধ্যেই রাশিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারকে ঘিরে একটি সক্রিয় পাচারকারী চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। ‘সার্ভিস ভিসা’র নামে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে লোক পাঠানোর চক্রান্ত করছে ঢাকা ও মস্কোর এই মানবপাচারকারী চক্র।
দূতাবাসের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সতর্ক করে জানান, সার্ভিস ভিসায় যারা রাশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন, স্থানীয় কিছু চক্র তাদের ভুয়া প্রলোভন দেখিয়ে পরে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে সম্ভাবনাময় এই নতুন বৈদেশিক শ্রমবাজারটি শুরুতেই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। প্রতারণার শিকার হয়ে ইতোমধ্যে ৩০ জন বাংলাদেশী কর্মী রুশ সেনাবাহিনীর হেফাজতে চলে যান। দূতাবাসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সেখান থেকে একজনকে উদ্ধার করে দেশে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। বাকিদের সন্ধানেও কাজ চলছে। অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আরো এক বাংলাদেশীকে দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
এ অবস্থায় সার্ভিস ভিসার নামে প্রতারক চক্রের প্রলোভনে পড়ে কাউকে রাশিয়ায় না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দূতাবাস। ইতোমধ্যে পাচারকারীদের বেশ কিছু নাম উদ্ধার করে তদন্তের জন্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দফতর ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠিয়েছে মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস।



