ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। লস অ্যাঞ্জেলেসের অত্যাধুনিক সোফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি শুধু দুই দলের জন্যই নয়, পুরো গ্রুপের সমীকরণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্র জয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে চাইবে, আর প্যারাগুয়ের লক্ষ্য থাকবে চমক দেখিয়ে মূল্যবান পয়েন্ট তুলে নেয়া।
১৯৯৪ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার তারা শুধু আয়োজক নয়, টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত দলও। কোচ মারিও পচেত্তিনোর অধীনে দলটি গত কয়েক বছরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যদিও চলতি বছরে বেলজিয়াম, পর্তুগাল ও জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কিছু হতাশাজনক ফল এসেছে, তবুও সেই ম্যাচগুলোকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখছে মার্কিন শিবির।
দলের সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়কসুলভ নেতৃত্ব দেয়া ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। এসি মিলানের এই তারকার সাথে আক্রমণে থাকবেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফোলারিন বালুগুন। মাঝমাঠে শক্তি যোগাবেন ওয়েস্টও ম্যাককেনি ও টেনলর এডামস। তবে রক্ষণভাগে কিছুটা দুশ্চিন্তা
রয়েছে। চোটের কারণে ক্রিস রিচার্ডসের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, আর অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টিস রিয়েমকে সামলাতে হবে প্যারাগুয়ের দ্রুতগতির আক্রমণ।
অন্য দিকে টানা তিনটি বিশ্বকাপ মিস করার পর আবারো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরেছে প্যারাগুয়ে। কোচ গুস্তাভো আলভারোর দল সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে নিজেদের শক্তিশালী রক্ষণভাগের জন্য বিশেষ প্রশংসা পেয়েছে। তারা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের মতো দলকে হারিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
প্যারাগুয়ের আক্রমণের মূল ভরসা মিগেল আলমিরন। পাল্টা আক্রমণে তার গতি ও ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। এ ছাড়া অ্যান্তনিও সানাব্রিয়া এবং দিয়াগো গোমেজ আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তবে ইনজুরির কারণে তরুণ তারকা জুলিও এনকিসোর খেলা নিয়ে সংশয় রয়েছে, যা প্যারাগুয়ের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
কৌশলগত দিক থেকে ম্যাচটি বেশ আকর্ষণীয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলের দখল রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে, অন্য দিকে প্যারাগুয়ে রক্ষণ গুছিয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে সুযোগ খোঁজে। ফলে ম্যাচের বড় লড়াই হতে পারে পুলিসিচের সৃজনশীলতা বনাম প্যারাগুয়ের কমপ্যাক্ট মিডফিল্ড ব্লকের মধ্যে।
ইতিহাসও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের একমাত্র বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৩০ সালে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল। সেই ম্যাচেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন বের্ট পাটেনাউডে। এ ছাড়া ২০১৬ কোপা আমেরিকাতেও প্যারাগুয়েকে হারিয়েছিল মার্কিনিরা।
ঘরের মাঠে প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের সমর্থন, আক্রমণভাগের তারকা শক্তি এবং সামগ্রিক স্কোয়াডের গভীরতা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা। তবে প্যারাগুয়ের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং পাল্টা আক্রমণের দক্ষতা ম্যাচটিকে কঠিন করে তুলতে পারে।



