পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লি সফরে গুরুত্ব পাবে সম্পর্কের স্থিতি

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দিনের সফরে গতকাল দুপুরে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তার সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন। ভারত মহাসাগর সম্মেলনে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৯ এপ্রিল দিল্লি থেকে মরিশাসে রওনা হবেন। তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে একই ফ্লাইটে মরিশাস যাবেন। ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১০ থেকে ১২ এপ্রিল পোর্ট লুইসে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের সম্মেলনে ভারত মহাসাগরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করবেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে ভবিষ্যতে আরো ফলপ্রসূ ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বিদ্যামান বাধাগুলো দূর করা, ভিসা ব্যবস্থা সহজীকরণ ও জ্বালানি সহযোগিতায় গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ভারতে আশ্রয় নেয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি হত্যা মামলার গ্রেফতার আসামি ফয়সাল করিম ও আলমগীর শেখকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য সঙ্কট মোকাবেলায় অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ চেয়ে সম্প্রতি ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে সরকার। এতে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে। ভারতকে দেয়া এ প্রস্তাবের ইতিবাচক সাড়া আশা করছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ছাড় পেয়েছে ভারত। বাংলাদেশও একই ধরনের ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চেয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত পায়নি। এ ক্ষেত্রে ভারতের পাওয়া বিশেষ সুবিধা থেকে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে কি না তা নিয়ে আলোচনা হবে।

অন্য দিকে ভারতের অগ্রাধিকারে রয়েছে নিরাপত্তা ও কানেক্টিভিটি। ভারত বিশেষ করে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে কানেক্টিভিটির ওপর জোর দিয়ে থাকে। বিএনপির নতুন সরকারের কাছে ভারত তা তুলে ধরবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের একটি রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।