স্পেনের সামনে অগ্নিপরীক্ষা অস্ট্রিয়ার

Printed Edition
লামিনে ইয়ামাল (স্পেন), মার্কো আর্নাউতোভিচ (অস্ট্রিয়া)
লামিনে ইয়ামাল (স্পেন), মার্কো আর্নাউতোভিচ (অস্ট্রিয়া)

ক্রীড়া প্রতিবেদক

রাশিয়া বিশ্বকাপে ২০১৮ সালে গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়ে নকআউটে উঠেছিল স্পেন। একই অবস্থা ছিল ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও। তবে দু’বারই দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল ২০১০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। তিন দেশের যৌথ আয়োজনে এবারের চলমান আসরেও গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নতুন সংস্করণের বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ জায়গা পেয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শেষ ষোলোতে জায়গা পেতে হলে এবার তাদেরকে হারাতে হবে অস্ট্রিয়াকে। অন্য দিকে দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপে ফিরেছে অস্ট্রিয়া। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোতে ব্যর্থ হয়েছিল মধ্য ইউরোপের স্থল বেষ্টিত দেশটি। এবার গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে অস্ট্রিয়া। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের দাবিদার স্পেন। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে মুখোমুখি হবে দুই দল।

২৩তম আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই নিজেদের পরিচিত ফুটবল দর্শনের ওপর আস্থা রেখেছে স্পেন। ছোট ছোট পাস, মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের অর্ধে দীর্ঘ সময় বল ধরে রাখাই তাদের প্রধান শক্তি। মাঝমাঠের সৃজনশীলতা এবং উইং দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষমতা, প্রতিটি ম্যাচেই এগিয়ে রাখে লা রোজাদের। তবে শুধু বল দখল করলেই হবে না, নকআউট পর্বে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাও দেখাতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেও গোলের সামনে কার্যকর হতে না পারার মূল্য দিতে হয়েছে স্পেনকে।

অন্য দিকে চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের একটি সুসংগঠিত দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে অস্ট্রিয়া। প্রতিপক্ষকে সহজে জায়গা না দিয়ে সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে তারা। দলগত শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমী ফুটবলে ম্যাচজুড়ে ধরে রাখার ক্ষমতা তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষেও ভয় পায় না অস্ট্রিয়া; বরং প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে দলটি। সেই ভুল থেকে সুযোগ তৈরি করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের।

মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়েকে হারিয়ে নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে লা রোজারা। শেষ ম্যাচে অ্যালেক্স বায়েনার জয়সূচক গোলের সুবাদে তারা তাদের দক্ষিণ আমেরিকান প্রতিপক্ষকে ১-০ গোলে পরাজিত করে, কিন্তু আসল আকর্ষণ ছিল দে লা ফুয়েন্তের রক্ষণভাগ।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে রক্ষণভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে স্পেন। কাঁধের সমস্যায় ইয়েরেমি পিনো, অ্যাডডাক্টর সমস্যায় নিকো উইলিয়ামস এবং উরুর মাংসপেশি সমস্যায় ভিক্টর মুনোজের চোটের কারণে বেশ বিপাকে পড়েছেন কোচ দে লা ফুয়েন্তে। শেষ ৩২-এর ম্যাচটি মিস করার ঝুঁকি রয়েছেন তারা।

দে লা ফুয়েন্তের দল নির্বাচনসংক্রান্ত দ্বিধাটি হলো মাঝমাঠে। যেখানে উরুগুয়ের বিপক্ষে মিকেল মেরিনোকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু ফাবিয়ান রুইজ, দানি ওলমো ও গাভি সবাই আর্সেনালের এই খেলোয়াড়ের জায়গা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত করছেন।

অন্য দিকে আলজেরিয়ার সাথে ছয় গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচের অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মার্কো আর্নাউতোভিচ ও ডেভিড আলাবা কিছুটা ক্লান্ত ছিলেন। তবে এই ম্যাচের আগে গুরুতর কোনো সমস্যায় নেই। এ ছাড়া কোচ রাংনিকের আর কোনো উদ্বেগ নেই। প্রয়োজনে আলাবা এবং আর্নাউতোভিচের বদলি হিসেবে প্রস্তুত আছেন কেভিন ডানসো ও মাইকেল গ্রেগোরিটস।

দুই দলের ম্যাচে সবচেয়ে বড় লড়াইটি হবে মাঝমাঠে। স্পেন যদি নিজেদের মতো করে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে দীর্ঘ সময় রক্ষণে ব্যস্ত থাকতে হবে অস্ট্রিয়াকে। কিন্তু যদি ২০১০ আসরের চ্যাম্পিয়নদের পাসিং লাইন ভেঙে দিতে পারে এবং মাঝমাঠে চাপ সৃষ্টি করতে পারে অস্ট্রিয়া, তাহলে স্প্যানিশদের ছন্দ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটই দুই দলের কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রক্ষণভাগেও বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে দুই দলের। অস্ট্রিয়ার দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাকে সতর্ক থাকতে হবে স্পেনকে। আবার অস্ট্রিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ৯০ মিনিট-জুড়ে স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণের চাপ সামলানো। দীর্ঘ সময় রক্ষণে থাকলে একাগ্রতা ধরে রাখা কঠিন। আর সেখানেই সুযোগ খুঁজবে স্পেন।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১৬টি ম্যাচ খেলে ৯টিতে জয় পেয়েছে স্পেন। আর চারটি জয় অস্ট্রিয়ার। বাকি তিন ম্যাচ হয়েছে ড্র। বিশ্বকাপে দল দু’টি একবারই দেখা হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। সেখানে অস্ট্রিয়া ২-১ গোলে জয়লাভ করলেও সর্বশেষ ম্যাচে জিতেছে লা রোজারা। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২০০৯ সালের ১৮ নভেম্বর। ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে স্পেন ৫-১ গোলে পরাজিত করেছিল অস্ট্রিয়াকে।