ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অভিষেকেই জালের দেখা পেলেন ইয়াসিন আয়ারি। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে গত পরশু সুইডেনের ৫-১ গোলের জয়ে দলের প্রথম ও শেষ গোলটি করেন ২২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তবে প্রথম গোল করে উদযাপন করলেন না সুইডিশ এই স্ট্রাইকার। ম্যাচের ৭ মিনিটে সর্বশক্তি দিয়ে নেয়া ভলিতে তিউনিসিয়ার জালে বল ঠেলে দেন তিনি। তিনি দু’হাত তুলে তিউনিসিয়ার সমর্থকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার মতো ভঙ্গি করেছিলেন। তারপর সেজদা করলেন এই মুসলিম ফুটবলার।
গোল করে উদযাপন না করার কারণ কী? কারণ তার শরীরে বইছে তিউনিসিয়ান রক্ত, যাদের হয়ে চার বছর আগেই অভিষেক হতে পারত। আয়ারি উত্তর আফ্রিকান বংশোদ্ভুত, তার বাবা তিউনিসিয়ান এবং মা মরক্কান। কিন্তু তার জন্ম সুইডেনে। ১৮ বছর বয়সে এই সম্ভাবনাময় ফুটবলার তিউনিসিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও তিনি তার জন্মভূমি সুইডেনকে বেছে নেন। বাবাও এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানান। ফলে নিজের বাবার দেশের প্রতি সম্মান জানাতে ও আবেগের বশবর্তী হয়ে তিনি প্রথম গোলের পর উল্লাস করেননি। তবে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (ইনজুরি টাইমে) নিজের দ্বিতীয় গোলটি করার পর তিনি আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তখন তিনি হাঁটু গেড়ে স্লাইড করে এবং কান দিয়ে ইশারা করে সুইডিশ সমর্থকদের সাথে বেশ উচ্ছ্বাসের সাথেই গোলটি উদযাপন করেন।
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটিতে অভিবাসী হিসেবে এসেছিলেন ইয়াসিনের বাবা আজ্জুজ আয়ারি। তিনি জানান, তার ছেলেকে তিউনিসিয়ান দলে খেলার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।
সোলনায় ঘরের ক্লাব রাসুন্ডার যুব দলে সাত বছর বয়সে খেলা শুরু করেন আয়ারি। তারপর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ফুটবল জায়ান্ট এআইকে-তে চলে যান, সেখানেই ২০২০ সালে সিনিয়র দলে অভিষেক। তিন বছর পর এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের সাথে চুক্তি করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব ব্রাইটন। একই বছর সুইডেন জাতীয় দলে অভিষেক হয় ইয়াসিনের।



