সত্য ও নৈতিক সাংবাদিকতার অঙ্গীকার নিয়ে ঢাকায় আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের কার্যালয় উদ্বোধন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের যুগে বিশ্বজুড়ে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এর ফলে মানুষ অনেক ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠী তথ্যবিভ্রান্তির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের অন্যতম বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তারা।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ঢাকা কার্যালয়ের (ইত্তেফাক-নিউনেশন ভবনে) উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা বলেন, মানুষের সত্য তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে পেশাদার, নিরপেক্ষ ও নৈতিক সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ও ইসলামিক স্কলার ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। সভাপতিত্ব করেন ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. নকিব নাসরুল্লাহ। আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ জাকির হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন। অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানি, বিশিষ্ট ব্যাংকার ড. মোহাম্মদ মোহন মিয়া, আবু রেজা ইয়াহিয়া, মোশাররফ হোসেন, তানজিমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ ইকবাল, নর্থসাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইমশিয়াত শরীফ, মিডিয়াব্যক্তিত্ব সালেহ আহমদ, কর্ডোভা কলেজের অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমদ প্রমুখ।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পেশার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে সমাজে আলোকিত চিন্তা ও সঠিক তথ্যের প্রবাহ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাকির হোসেন বলেন, সত্য ও ন্যায়ভিত্তিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি সবাইকে এ উদ্যোগের সাথে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি ও তার সহকর্মীরা পেশাদার সাংবাদিকতার নীতিতে অটল থাকবেন এবং ভুয়া সংবাদ ও মিথ্যা প্রচারণার সাথে কোনো আপস করবেন না।

তিনি আরো বলেন, আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক মুসলিম উম্মাহর অগ্রগতির জন্য নিবেদিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচালিত হবে। পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য একটি স্বাধীন ও কার্যকর কর্মপরিবেশ তৈরির পাশাপাশি সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চাকে এগিয়ে নেয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট বর্তমানে বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও তুর্কি- এই চার ভাষায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে আরো কয়েকটি ভাষায় এর কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে জার্মান ভাষা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বহুভাষিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের পাঠকের কাছে সংবাদ ও বিশ্লেষণ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সংবাদমাধ্যম শুধু খবর প্রকাশের মাধ্যম নয়; জনমত গঠন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সত্যমিথ্যা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে পারলে ভবিষ্যতে এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। একই সাথে এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক তরুণ, উদ্যমী ও পেশাদার সাংবাদিক তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মুসলিম বিশ্বের গণমাধ্যম খাতের দুর্বলতাও তুলে ধরেন। তাদের মতে, মুসলিম নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমের গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে মিডিয়া শিল্পে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করা এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গড়ে তুলতে উদ্যোগের ঘাটতিকে তারা বড় ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন।

তারা বলেন, বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ সম্পর্কে মানুষের ধারণা তৈরিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। অথচ মুসলিম বিশ্বের নিজস্ব বয়ান ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার জন্য শক্তিশালী ও পেশাদার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। এ ঘাটতি পূরণে নতুন উদ্যোগগুলোকে পেশাদারিত্ব, প্রযুক্তি ও সাংবাদিকতার নৈতিক মান বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য নয়, সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম গড়ে তোলা সবার স্বার্থেই প্রয়োজন। আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট সেই দায়িত্ব পালনে কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে এর সম্পাদকীয় স্বাধীনতা, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা, পেশাদার সাংবাদিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতার ওপর।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের নতুন যাত্রার সাফল্য কামনা করেন এবং সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় প্রতিষ্ঠানটির পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।