বেনজীরের ব্যাপারে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়া বেনজীর আহমেদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অন্তত চারটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব চেয়েছে দুবাই পুলিশ। শিগগিরই এসব বিষয়ে জবাব দেবে দুদক।

গতকাল মঙ্গলবার দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো: আকতারুল ইসলাম বলেন, দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর বেনজীর প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকার এবং দুদকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সব ডকুমেন্ট পাঠিয়েছিলেন। সম্প্রতি দুবাই পুলিশ থেকে কয়েকটা বিষয়ে ক্লিয়ারেন্সের জন্য একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যা দুদকে এসেছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা খুব শিগগিরই তা পাঠিয়ে দেবে।

গত ১৬ জুন বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইংরজি ও আরবি ভাষায় দুই ধরনের প্রত্যর্পণ প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক।

নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে আসামি গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরাতে তদন্তকারী সংস্থা বা আদালত কর্তৃক গ্রেফতারি পরোয়ানা, এজাহার, অভিযোগপত্র এবং অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে পাঠানো হয়।

দুর্নীতি মামলার আসামি আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবির ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। গত ১২ জুন বাংলাদেশের এনসিবিকে চিঠি দেয়া হয়।

ওই চিঠিতে এনসিবি আবুধাবি জানায়, ইউএইর ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে। আইন অনুযায়ী প্রত্যর্পণ আবেদনের সাথে আরবি ভাষায় অনূদিত, যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত নিম্নোক্ত তথ্য ও নথি সংযুক্ত করতে হবে।

যার মধ্যে রয়েছে- প্রত্যর্পণযোগ্য ব্যক্তির নাম, পরিচয়, ছবি (যদি থাকে), জাতীয়তা, ঠিকানা এবং পরিচয় শনাক্তে সহায়ক অন্যান্য তথ্য, অভিযুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, নির্ধারিত শাস্তি এবং তামাদি-সংক্রান্ত বিধানের অনুলিপি, অনুরোধকারী দেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার বিস্তারিত বিবরণ, যেখানে অপরাধের প্রকৃতি, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং অপরাধ সংঘটনের স্থান উল্লেখ থাকবে। তদন্তাধীন মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে, দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদালতের রায় বা দণ্ডাদেশের সত্যায়িত অনুলিপি, অপরাধের বিবরণ, আরোপিত শাস্তি এবং রায় কার্যকরযোগ্য হওয়ার প্রমাণপত্র ইত্যাদি।

২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। দুর্নীতির দুই মামলার তদন্তকালে আদালতের নির্দেশনায় ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যুর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল দুদক।

মামলার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা রয়েছে। ওই মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এই মামলার বাদি দুদক উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের গ্রেফতার পরোয়ানা জারি করে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যু করা হয়।