রাতে দাঁত ব্রাশ না করার বিপদ

Printed Edition

রোজ অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করার পরামর্শ দেন দন্তবিশেষজ্ঞরা। তবে বাস্তবতা হলো, এমন বহু মানুষ আছেন, যারা রাতে শোবার আগে ব্রাশ করেন না। অথচ শোবার আগের এই দুই মিনিটের ছোট্ট কাজ না করার কারণেই পরে দেখা দেয় নানা সমস্যা। রাতে ব্রাশ না করার কারণে নিজের অজান্তেই দাঁতের ভয়াবহ ক্ষতি করে চলেছেন তারা।

স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মুখের ভেতর লালার নিঃসরণ হয়। সারা দিন কমবেশি চলতে থাকে এ প্রক্রিয়া। খাওয়ার সময় এ নিঃসরণ বাড়ে। কথা বলা কিংবা হাসি-কান্নার সময়ও লালার নিঃসরণ বাড়ে। কিন্তু ঘুমানোর সময় এ নিঃসরণ খুবই কমে যায়। আবার যারা গভীর রাতে জেগে থাকেন, তারাও সে সময় তেমন খাওয়া-দাওয়া করেন না। মোটকথা, দিনের চেয়ে রাতে লালা নিঃসৃত হয় কম।

লালার নিঃসরণ কমে গেলে কী হয়, তা বোঝার জন্য প্রথমে জেনে নেয়া যাক মুখের ভেতরকার জীবাণুর বিষয়ে। আমাদের দেহের বিভিন্ন অংশে কিছু জীবাণু থাকে। এসব জীবাণু আমাদের জন্য উপকারী। তবে কিছু পরিস্থিতিতে এসব জীবাণু দিয়েও সংক্রমণ হয়। যখন পর্যাপ্ত লালা নিঃসৃত হয়, তখন মুখের ভেতরকার স্বাভাবিক জীবাণুগুলো সেখানে জমা হতে পারে না। কিন্তু রাতে যখন লালা নিঃসরণ কমে যায়, তখন এসব জীবাণু লম্বা সময়ের জন্য জমা হয় মুখে। এসব জীবাণুর কারণেই তখন ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব জীবাণুর প্রভাবে দাঁতের ফাঁকে বা গোড়ায় জমে থাকা খাবারের ক্ষুদ্র কণাগুলোয় পচন ধরতে থাকে।

আরো একটি ক্ষতিকর বিষয় হলো, এসব জীবাণু অ্যাসিড তৈরি করে এবং সেই অ্যাসিড জমে থাকে মুখে। এ কারণে ক্ষয় হতে থাকে দাঁতের এনামেল। অ্যাসিডের কারণে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখে টক ভাবও থাকতে পারে।

  • এতসব প্রাণরাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার কারণে দাঁতের ওপর একটা বাড়তি স্তর তৈরি হয়। একে বলা হয় প্লাক। দাঁতের অধিকাংশ সমস্যার জন্যই দায়ী এ প্লাক।
  • মুখে দুর্গন্ধ হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাতে ব্রাশ না করার অভ্যাস থাকলে একসময় এ দুর্গন্ধ প্রায় স্থায়ী হয়ে যায়। এতে একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস কমে যায়।
  • দাঁতের ফাঁকে বা গোড়ায় জমে থাকা ময়লা একসময় ছোট ছোট সাদাটে পাথরের মতো হয়ে যায়। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়ে। খুব বেশি শক্ত হয়ে গেলে দন্তবিশেষজ্ঞের সাহায্য ছাড়া এগুলো সরানো যায় না।
  • দাঁতের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। হলদে কিংবা বাদামি দেখায়। অনেকের দাঁতে দাগ পড়ে যায়। ইন্টারনেট।