সিলেট ব্যুরো
সিলেটের মোগল স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন নগরীর ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহে ৪০০ বছর ধরে চলছে ঈদের জামাত। ঐতিহ্যবাহী এই স্থানে শুধু ঈদের জামাতের স্থান নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে সিলেটবাসীর গভীর আবেগও। প্রতি বছর সিলেট নগরী ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকেও এখানে ঈদের নামাজ পড়তে ছুটে আসেন মুসল্লিরা। সময়ের ধারাবাহিকতায় এবারো ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এই ঈদগাহ ময়দান।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী শনিবার (২১ মার্চ) বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিহাস বলছে, প্রায় ৪০০ বছর আগে সপ্তদশ শতকের শুরুতে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে এই শাহী ঈদগাহ নির্মিত হয়। ওই সময় সিলেটের ফৌজদার ফরহাদ খাঁর তত্ত্বাবধানে নগরীর উত্তর-পূর্বাংশে টিলাভূমিতে দৃষ্টিনন্দন মোগল স্থাপত্যশৈলীতে ঈদগাহটি স্থাপিত হয়। সময়ের সাথে সাথে ঈদগাহে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। নির্মিত হয়েছে সুউচ্চ মিনার, একাধিক দৃষ্টিনন্দন ফটক। তবে মূল স্থাপত্য নকশা অক্ষুণœ আছে। ফলে এই ঈদগাহটি মোগল স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবেও সুপরিচিত।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই ঈদগাহের সাথে জড়িয়ে রয়েছে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের গৌরবগাথা। ১৭৭২ সালে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহের সূচনা হয় এখানে। সৈয়দ হাদী ও সৈয়দ মাহদী নামে দুই ভাই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কারণে এই শাহী ঈদগাহে শহীদ হন। মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো প্রখ্যাত নেতারা শাহী ঈদগাহ ময়দানে রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন। অতীতে সিলেটের বড় বড় রাজনৈতিক সমাবেশ হতো এখানেই।
ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহে এখন প্রতি ঈদে প্রায় দুই লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। এবারো ঈদ জামাতের জন্য ধুয়ে-মুছে প্রস্তুত করা হয়েছে শাহী ঈদগাহ ময়দান। ঈদগাহ ময়দানের মধ্যখানে কারুকার্যখচিত ২২টি দীর্ঘকায় সিঁড়ি রয়েছে। এই সিঁড়ি মাড়িয়ে ওপরে উঠলে দেখা মিলে মূল ঈদগাহের। সেখানে ১৫টি গম্বুজ, নবনির্মিত সুউচ্চ মিনার, ইমামের দাঁড়ানোর স্তম্ভ রয়েছে। সেখান থেকেই ঈদের খুতবা দেন ইমাম সাহেব। মূল অংশের নিচে রয়েছে সুবিশাল ঈদগাহ ময়দান। যেখানে এক নামাজ পড়তে পারেন দেড় লক্ষাধিক মানুষ। এই অংশে থাকা গাছের সারিও ঈদগাহ ময়দানের সৌন্দর্য্য বাড়িয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে একটি পুকুরও। পাকাঘাট বাঁধানো পুকুরের চারদিকে এক সাথে শত শত মুসল্লি অজু করতে পারেন।
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সময়ে তাদের আগ্রহে ঈদগাহের অনেক সংস্কার কাজ হয়। ২০০১ সালে ঈদগাহে বড় তিনটি ফটক নির্মাণ করে দেন সিলেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জহির উদ্দিন তারু মিয়া। এদিকে সিলেটের সাবেক মেয়র, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শাহী ঈদগাহের মোতাওয়াল্লি আরিফুল হক চৌধুরীর বিশেষ প্রচেষ্টায় ঈদের পরই শাহী ঈদগাহের উন্নয়নে পাঁচ কোটি টাকার কাজ শুরু হবে। মন্ত্রী নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন।
ব্যবস্থাপনা কমিটি জানিয়েছে, ঈদের নামাজের জন্য শাহী ঈদগাহ পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। ঈদের নামাজ সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। নামাজে ইমামতি করবেন সিলেট বন্দর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মোশতাক আহমদ খান।



