ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আজাদ পার্টির মশাল মিছিল

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গুলশানে অবস্থিত দেশটির দূতাবাস অভিমুখে ‘আলোর মিছিল’ করেছে নবগঠিত রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন দলটির আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব: হাসিনুর রহমান, ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

পরে পুলিশি বাধায় মশাল মিছিলটি পণ্ড হয়ে যায়।

গতকাল শুক্রবার রাত ৮টায় মিছিলটি গুলশানে ভারতের দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। পরে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন হলের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। এরপর ‘ফেলানি এভিনিউ’ হয়ে সেটি শান্তিপূর্ণভাবে ভারতীয় দূতাবাসের অভিমুখে অগ্রসর হয়।

আজাদ পার্টির প্রধান সংগঠক কবি বোরহান মাহমুদ জানান, ভারতের ধারাবাহিক বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড, সীমান্তে নিরীহ বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা, পুশইনের অপচেষ্টা, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আশ্রয়-প্রশ্রয় প্রদান এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্য হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রায় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই এই ‘আলোর মিছিল’।

তিনি দলমত, ধর্ম ও মতাদর্শ নির্বিশেষে দেশপ্রেমিক সকল নাগরিককে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান হয়। এ আয়োজন উপলক্ষে ইতোমধ্যে রাজধানীতে ১১ দফা দাবি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেছে।

আজাদ পার্টির ১১ দফা দাবি : গণমাধ্যমে পাঠানো দলটির ১১ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঢাকা ব্যতীত দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থিত সকল ভারতীয় উপ-দূতাবাস, ভিসা সেন্টার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করা। সীমান্ত এলাকায় সকল প্রকার অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালান বন্ধ এবং বাংলাদেশে কর্মরত সকল ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা। এ পর্যন্ত সংঘটিত সকল বেআইনি সীমান্ত হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের।

ভারত থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ এবং ভারতের সাথে সম্পাদিত সকল দ্বিপাকি চুক্তি বাতিল করা। বিডিআর (পিলখানা) হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা ও শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যায় ভারতীয় প্রত্যক্ষ মদদের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা। ভারতে ভ্রমণ, শিক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা এবং পাসপোর্টে ইসরাইলের পাশাপাশি ভারতকে শত্রু দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ থেকে সম্পদ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের। সমুদ্রসীমা সালিশি আইন বাতিল করে পুনরায় সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করা।

জাতিসঙ্ঘ ও কমনওয়েলথসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে ভারতকে ‘সন্ত্রাসে মদদদাতা দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়া।