নিরাপত্তা ঝুঁঁকি বিবেচনায় অস্ত্র ব্যবহারে প্রস্তুত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যরা। ইতোমধ্যে অস্ত্র ব্যবহার ও আইনগত বিধিনিষেধ সম্পর্কে সারদা থেকে ধাপে ধাপে ট্রেনিং সম্পন্ন করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী সদর দফতরের মাধ্যমে টেন্ডার করে তুরস্ক থেকে ৯ মিমি অটোমেটিক পিস্তল টি-৫৪ কেনার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানা গেছে। এখন বিভিন্ন ধাপের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাতের পাওয়ার অপেক্ষা।
অধিদফতর সূত্র বলছে, সময়ের সাথে অপরাধের ধরনও পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে কারবারিরা শুধু মাদকই বহন করে না; তাদের হাতে থাকে অত্যাধুনিক অস্ত্র। এসব অস্ত্রের সামনে খালি হাতেই অভিযান চালাতে হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যদের। যার কারণে অভিযানগুলো শতভাগ পূর্ণতা পায় না। এ ধরনের নানা অসুবিধার কথা বিবেচনা করে অধিদফতরকে শক্তিশালী করতে এবং অভিযানকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁঁকি বিবেচনায় তাদের অস্ত্র ব্যবহারের এ নীতিমালা প্রণয়ন করে বর্তমান সরকার। ওই নীতিমালা অনুযায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মাঠ পর্যায়ের উপপরিচালক থেকে উপপরিদর্শক পর্যায়ের ৫৭৯ জন কর্মকর্তা অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন উপপরিচালক ৯০ জন, সহকারী পরিচালক ৯৩ জন, পরিদর্শক ১৮৬ জন, উপপরিদর্শক ২১০ জনসহ মোট ৫৭৯ জন (প্রাধিকার অনুযায়ী)।
কোন পরিস্থিতিতে গুলি করা যাবে
এ সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, আসামি গ্রেফতার ও আলামত জব্দ, আত্মরক্ষা এবং সরকারি সম্পত্তি যেমন- অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ, স্থাপনা, যানবাহন উদ্ধার, উদ্ধারকৃত আলামত, আসামি, জব্দকৃত আলামত, সম্পদ প্রভৃতি রক্ষা করার আইনানুগ অধিকার রক্ষায় শক্তি প্রয়োগ তথা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যাবে। তবে যেকোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা যাবে না এবং ঘটনার পর যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্যভাবে বল প্রয়োগ বা গুলিবর্ষণের প্রমাণ দেখাতে হবে। এ নীতিমালা পুলিশ, আনসার, বিজিবিসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেলায় প্রয়োগ হয়ে থাকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (পরিদর্শকের নিচে নন) গুলিবর্ষণের সিদ্ধান্ত আদেশ দিবেন।
মানতে হবে নানা নির্দেশনা
হঠাৎ করে কোনো কারণে গুলিবর্ষণের প্রয়োজন হলে, কর্তব্য পালন স্থানের পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে টিম লিডার তা শিগগিরই অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তাকে জানাবেন এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/পুলিশ সুপার/উপজেলা নির্বাহী অফিসার/নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট/থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করতে হবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ঘটনার স্থান, দূরত্ব, এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় বাস্তবতার আলোকে সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বা মেট্রো বা জেলা বা বিভাগীয় গোয়েন্দা বা বিশেষ জোন কার্যালয়ের কর্মকর্তা (সহকারী পরিচালক বা উপপরিচালক বা অতিরিক্ত পরিচালক) যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই স্থানে যাবেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। সর্বশেষ পন্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গুলিবর্ষণের আদেশ দিতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে আদেশ দাতাকে অধিদফতর বা নির্বাহী তদন্তে গুলিবর্ষণের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে।
গুলিবর্ষণের পর করণীয়
গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলে তা তাৎক্ষণিকভাবে অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বা মেট্রো বা জেলা বা বিভাগীয় গোয়েন্দা বা বিশেষ জোন কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা মহাপরিচালককে জানাতে হবে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে দ্রুততার সাথে মহাপরিচালককে জানাবেন। গুলিবর্ষণের ঘটনার পর শিগগির সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার নথিভুক্ত করতে হবে। অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় বা মেট্রো বা জেলা বা বিভাগীয় গোয়েন্দা বা বিশেষ জোন কর্মকর্তা বিষয়টি তদারকি করবেন। এ ক্ষেত্রে অভিযানে নেতৃত্বদানকারী বা টিম লিডার বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এজাহারকারী হিসেবে অভিযোগ দায়ের করবেন। প্রয়োজনে অভিযানকারী দলের অন্য সদস্যরা সাক্ষী হিসেবে থাকতে পারবেন।
জানতে চাইলে অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উত্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর শামীম আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, খালি হাতে অস্ত্রে সজ্জিত অপরাধীকে ধরতে যাওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে আসছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্যরা। সে নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিবেচনা করে সরকার নতুন নীতিমালা করে অধিদফতরের সদস্যদের অস্ত্র ব্যবহার ব্যবস্থা করে দিয়েছে, যা সময়ের দাবি ছিল। সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে নীতিমালা অনুযায়ী অস্ত্র ব্যবহার করতে প্রস্তুত রয়েছে অধিদফতরের সদস্যরা।



