হামিম উল কবির
ওষুধের কাঁচামাল (এপিআই) থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর ঘোষণা সত্ত্বেও ওষুধের দাম কমবে কি না- তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না ওষুধ কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা। কারণ, শুল্ক ও ভ্যাট কমলেও আরো কিছু ফ্যাক্টর রয়েছে যেগুলোতেও সরকার হস্তক্ষেপ না করলে দাম কমবে না অথবা কমানো সম্ভব হবে না। তবে ওষুধ শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, বাজেটে যে ভ্যাট ও শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তা পাস হলে কিছু ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটবে ওষুধের দামের ওপর। তবে কেউ সরাসরি বলতে পারছেন না যে, সামনে নিশ্চিতভাবেই ওষুধের দাম কমতে যাচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে এপিআই উৎপাদনে ব্যবহৃত নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহােেরর প্রস্তাব করা হয়েছে। ওষুধ শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ১৭টি মৌলিক কাঁচামালকে শুল্ক প্রত্যাহার সুবিধার আওতায় এনে আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ৯টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তি হিসেবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এতে দেশীয় এপিআই শিল্প আরো স্বনির্ভর হবে, ওষুধ উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানি প্রতিযোগিতামূলক থাকবে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সব এপিআইয়ের জন্য একক হারে দাম বাড়ানো হয়নি। বরং ওষুধ শিল্পকে সহায়তা হিসেবে কয়েকটি বড় শুল্ক রেয়াত ঘোষণা করেছে।
ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালের (এপিআই) ওপর শুলক ও কর বাড়ানো হয়নি বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর কমানো ইতিবাচকভাবে দেখছেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মো: হালিমুজ্জামান। আমরা অর্থমন্ত্রীর বাজেটের প্রশংসা করছি, আমাদের জন্য অনেক ভালো বাজেট হয়েছে, এতে ওষুধ শিল্পের কল্যাণ হবে।’ হালিমুজ্জামান চীন সফরে থাকায় এরচেয়ে বেশি কিছু না বলতে চাইলেও ওষুধ শিল্পের অনেকেই বলছেন, এমন আরো অনেক ফ্যাক্টর রয়েছে যে কারণে সামনে ওষুধের দাম কমানো সম্ভব হবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওষুধ শিল্পের একজন উদ্যোক্তা বলেন, সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, এর প্রভাবটা দামেও পড়তে বাধ্য। এ ছাড়া রয়েছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। সরকার গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ওষুধ কারখানার উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য জেনারেটর চালাতে হয়। সাধারণত এক মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ২০০ থেকে ২৫০ লিটার ডিজেল লাগে। এটা কারখানা ভেদে কম-বেশি হয়ে থাকে। জ্বালানি তেল বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ার পর এপিআইয়ের শুল্ক ও ভ্যাট কমানো হলেও সামনে ওষুধের দামে খুব বেশি পরিবর্তন হবে না, হওয়া সম্ভব নয়। তবে এতে দাম বাড়ানোর ওপর চাপ কমাবে এবং নতুন ওষুধের দাম তুলনামূলক কম রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ওই উদ্যোক্তা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল ছাড়া ডলারের দাম স্থির থাকে না।
বেড়েই চলেছে ডলারের দাম। অন্য দিকে এপিআই তৈরির কারখানায় সরকার এখনো গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি, ফলে শুল্ক ও ভ্যাট কমালেও কারখানাগুলো এপিআই উৎপাদন করতে পারছে না।
পরিবহন ব্যয়ও যোগ হয়ে এর প্রভাব পড়বে দামে ওপর। এই সব কারণে ওষুধের দামে বাজেটের সুবিধা খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।
বাজেটে শুল্ক ও ভ্যাট কমানো অথবা শূন্য করে দেয়ার কারণে বিশেষ করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ তৈরিতে সুবিধা হবে।
বাংলাদেশ এখন প্রায় ৯৫ শতাংশ এপিআই বিদেশ থেকে আমদানি করে। শুল্ক ছাড় দেশীয় এপিআই উৎপাদনকে উৎসাহিত করবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।
বর্তমানে ১৫০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশ ওষুধ রফতানি করে। উৎপাদন ব্যয় কমলে বাংলাদেশের ওষুধ বিদেশের বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি করা যাবে। ক্যান্সারের ওষুধের কাঁচামালের ওপর শুল্ক ভ্যাট কমে যাওয়ায় দাম কমিয়ে দিলে রফতানিও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



