নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের দেওয়া বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর ও অসত্য’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব রিটায়ার্ড ইসলামী ব্যাংকার্স (আরিব)।
গতকাল বৃহস্পতিবার সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি সফল ও আস্থাশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠে। আমানত, বিনিয়োগ, বৈদেশিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন সূচকে ব্যাংকটি ধারাবাহিকভাবে ভালো অবস্থানে ছিল। সুশাসন, পেশাদারিত্ব, গ্রাহকসেবা এবং নৈতিকতার কারণে ব্যাংকটি দীর্ঘ সময় দেশের অন্যতম সেরা ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ব্যাংকটির অবনতি শুরু হয়। বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি বিনিয়োগ ৬০ শতাংশের বেশি বলে উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকের প্রতি জনআস্থা কিছুটা ফিরে আসতে শুরু করেছিল। তবে সম্প্রতি নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ফলে গ্রাহকদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।
সংসদে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কয়েকটি বিষয় নিয়ে আপত্তি তুলে ধরে আরিব বলেছে, রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) প্রকল্পে নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা তথ্যভিত্তিক নয়। সংগঠনটির দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালে আরডিএসের আওতায় ৬ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা বিতরণ এবং ৬ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। একইভাবে ২০২৫ সালে বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা এবং আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা।
নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতির বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।
তাদের দাবি, ২০১৭ সালের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি এবং পরবর্তীতে যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নেননি।
এছাড়া ‘লান্তাবুর’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ৪০ কোটি টাকার অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগকেও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে আরিব।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে বা তথ্য আড়াল করে জাতীয় সংসদে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তাই ইসলামী ব্যাংককে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে ব্যাংকিং নিয়মনীতি অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।



