তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

রাস্তা থেকে বাবা ছেলেকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ছেলেকে নিয়ে মোহাম্মদপুরে আত্মীয়ের বাসা থেকে সুবজবাগের বাসায় ফিরছিলেন ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান। পথে দারুসসালাম এলাকায় বাইক থামিয়ে পানি কিনতে গেলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্বৃত্তরা। এরপর একটি ভবনের ছাদে নিয়ে মুক্তিপণের জন্য চালায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

চোখের সামনে সন্তানের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়ে মোবাইলের মাধ্যমে স্বজনদের কাছ থেকে টাকার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর মোবাইল মোটরসাইকেল রেখে একটি সিএনজি অটোরিকশায় উঠিয়ে দেয়া হয় তাদের। ঘটনাটি ঘটে গত ২ জুলাই রাতে দারুসসালাম মসজিদের নিচে একটি দোকানের সামনে।

ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪-এর একটি দল। তারা হলো- মো: বিল্লাল (৩৫), মো: জুম্মন (৩০) ও শেখ মো: ফয়সাল (৩৫)। গত শনিবার রাতে দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এন রায় নিয়তি।

র‌্যাব জানায়, গত ২ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরের আত্মীয়ের বাসা থেকে ছেলেকে নিয়ে সবুজবাগের বাসায় ফিরছিলেন মাহফুজ। কল্যাণপুর এলাকায় দারুস সালাম জামে মসজিদের নিচে একটি দোকান থেকে পানি কেনার জন্য থামেন তারা। পরে পানি নিয়ে মোটরসাইকেল চালু করতেই পাঁচ-ছয় ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের। এরপর পাশের একটি পুরনো ভবনের চিলেকোঠায় নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। চাঁদার দাবিতে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এক পর্যায়ে ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং ও ফোন তল্লাশি করে পর্যাপ্ত টাকা না পেয়ে বিভিন্ন নিকটাত্মীয়কে ফোন করে টাকা জোগাড় করতে চাপ দেয়। পরে পরিচিত কয়েকজনসহ ভিকটিমের খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর মাহফুজের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও মোটরসাইকেল রেখে একটি সিএনজিতে উঠিয়ে পাঠিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, সিএনজিতে তুলে দেয়ার আগে তাদের হুমকি দেয়া হয়, ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে আরো ভয়াবহ পরিণতি হবে। পরবর্তীতে ভিকটিম মুগদা মেডিক্যাল হাসপাতালে দুই দিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দারুস সালাম থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪ তিনজনকে শনাক্ত করে তাদেরকে গ্রেফতার করে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসামিরা ঢাকা মহানগরীর দারুস সালাম, শাহাআলী, মিরপুর থানাসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।