স্পেনের সুপার সাব মেরিনো

Printed Edition
জয়সূচক গোল করার পর মিকেল মেরিনো : ইন্টারনেট
জয়সূচক গোল করার পর মিকেল মেরিনো : ইন্টারনেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে

স্পেন দলে মূল স্ট্রাইকার আছেন একজন। তিনি মিকেল ওয়ারজাবাল। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তিনি ৩০ মিনিট পর্যন্ত বলের সাথে পা বা মাথার সংযোগ ঘটাতে পারেননি। অবশ্য এই সমালোচনার জবাব তিনি পরের ম্যাচগুলোতেই দিয়েছেন। সৌদি আরব ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করেছেন দু’টি করে গোল। তবে নক আউটের পরের দুই ম্যাচে আর তার পক্ষে গোল করা সম্ভব হয়নি। পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মতো শক্তিধর দলের বিপক্ষে তার এই অফ ফর্মে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন মিকেল মেরিনো। দুই খেলাতেই জয়সূচক গোল আর্সেনালের এই মিডফিল্ডারের। উভয় ম্যাচেই নেমেছিলেন বদলি হিসেবে। এরপর গোল করে দলকে পরের রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া। ফলে স্পেন দলে এখন তিনি প্রকৃতই সুপার সাব।

এই মিডফিল্ডারের সুপার সাবের ভূমিকায় নেমে গোল করাটা শুধু বিশ্বকাপের মতো বড় আসরেই নয়; ২০২৪-এ ইউরোতেও তিনি এই বদলি হিসেবে গোল করেছিলেন জার্মানির বিপক্ষে। এখন স্পেনের কোচ তাকে সেমিফাইনালে কি নিয়মিত একাদশে রাখবেন নাকি রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে পরে সুযোগ মতো খেলার সুযোগ দেবেন, সেটি ম্যাচের পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে।

তবে এই তিনি স্প্যানিশ দলের ভাগ্যবান বদলি খেলোয়াড়। পর্তুগাল কানাডার মাঠে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে স্বস্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল। তাদের স্বপ্ন ছিল স্পেনকেও হারিয়ে পরের রাউন্ডে উঠবে। তবে এই মিকেল মেরিনো সব আশা শেষ করে দেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের। বদলি হিসেবে নেমে গোল করা তার। মজার বিষয় হলো মাঠে নামার কিছুক্ষণ পরেই গোল পান তিনি।

পর্তুগালের বিপক্ষে কোচ ডি লা ফুয়েন্তে ৮৪ মিনেটে তাকে মাঠে নামান। এর সাত মিনিটের মাথায় তার গোল। হেডে জালে পাঠান বল। সেরা ১৬-এর এই ম্যাচের পর পরশু লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠেও তাদের জার্সি পরতে হয় ৮৫ মিনিটে। আর গোলটি করেন ঠিক তিন মিনিট পর। বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষকের হাত ফসকে আসা বল তিনি একটু শূন্যে ভাসিয়ে জালে পাঠান, যাতে প্রতিপক্ষের কারো কোনো বাধা সমস্যা না করে। একেবারে যথার্থ স্ট্রাইকারের মতো।

সর্বশেষ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি জার্মানির বিপক্ষে গোলটি করেছিলেন ১১৯ মিনিটে। এতে স্পেন ২-১-এ জয় পায়। অবশ্য তার আন্তর্জাতিক ম্যাচে হ্যাটট্রিকও আছে। এবারের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তুরস্কের বিপক্ষে। এরপর বুলগেরিয়ার বিপক্ষেও গোল করেন সেই বাছাই পর্বে।